প্লুটো সৌরজগতে আর নেই
মারজুক'দার হাওয়াই জলের গাড়ি ছুটে চলে গোল্লায়, গোল্লা আবার কোথায়? সেই ছোটথেকে শুনছি, ছেলেটা গোল্লায় যাচ্ছে! সবকিছু গোল্লায় চলে গেল। প্লিজ, কেউ কি আমাকে বলবে, এই গোল্লাটা এ্যাকচুয়ালি কোথায়? এখন তো তোমরা দার্শনিক হয়ে যাবে, বলবে- ওটা তীর্থস্থান, অশেষ উপকারি কোনকিছু। ভাই, গোল্লা নামের কোনকিছুতো পৃথিবীতে এক্সিস্ট করে না, তাহলে গোল্লা কি মহাশুন্যে? যেখানে প্লুটোরা অনিয়মিত ভাবে কক্ষচ্যূত হয়, যেখানে একটা ব্লাকহোল গ্রাস করে নেবে পৃথিবীকে, এই ভেবে কিছু ঘুমহীন মানুষেরা শান্তিতে থাকতে পারে না! যেখানে অনিয়মিতভাবে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরনে উপত্যকা প্লাবিত হয়ে গজিয়ে ওঠে সজীবতার বিষবৃক্ষ।
'হাওয়াই জলের গাড়ি' অতিক্রম করে গ্রহ থেকে গ্রহান্তর, কখনো উল্কাপিন্ড কাছাকাছি এসে স্বাভাবিক গতিবিধির পরিবর্তন করছে, তো কখনো মহাশুন্যের নিস্তব্ধতায় থেমে যাচ্ছে সময়। প্লুটোর খুব কাছাকাছি এসে থেমে যায়, হাওয়াই জলের গাড়ি, জানালায় তাকিয়ে দৃষ্টি পড়তেই একি! প্লুটোর দিকে তাকিয়ে থাকা যায় না কেনো, আর ছেলেটা যেনো দৃষ্টি মেলাতে চাচ্ছে না! সমস্যাটা কোথায়? আমি নিজেও তো ওর দিকে তাকাতে পারছি না! ও এতো দুর্বোদ্ধ করে রেখেছে কেনো নিজেকে? প্লুটোর জন্য প্রচুর কৌতুহল হচ্ছে! কিন্তু হাওয়াই জলের গাড়িটাতো নিয়ন্ত্রণ করছে অন্য কেউ। প্লুটোর পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় কয়েকটা ছবি তুলেছিলাম, নৈস্বর্গীক সেই নিস্তব্ধতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি কিছুক্ষণের জন্য নিজেকে ভুলেই গিয়েছিলাম।
কিছুদিন ধরে একটা উক্তির দ্বার্থকতা নিরসন না হওয়ার কারনে বার বার ফিরে আসছে, উক্তিটা হল- "ডনট্ জাজ এ বুক বাই ইটস্ কভার"। পৃথিবীর বিখ্যাত সব উক্তিরই দ্বার্থবোধকতা থাকে, সহজ ভাবে নেগেটিভ ও পজেটিভ ইম্প্যাক্ট। উপরোক্ত উক্তিটির সমাধান আছে "তারে জামিন পার" সিনেমার একটা স্কুলবুকের প্রচ্ছদে। একটা বইয়ের প্রচ্ছদ "বহৎ ইম্পরট্যান্ট হোতে হ্যা ভাই"। আর নামকরন
সেটা তো আরো ডিপইনসাডের কোন কিছু। চলো উক্তিটির দ্বার্থবোধকতা নিরসন করি:
একটা ভালো বই শেষ করার পর যে সুন্দর অনুভুতি থাকে সেটাকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়াই উক্তিটির মুল উদেশ্য। "মাই কোয়েশ্চিন ইজ- হয়েন ইউ নীড টু ট্রাভেল লাইক, মাইনিং টেক্সট অর সামথিং ডিপড্রাইভ দ্যান হোয়াট ইউ ইউস টু?"
কিছুদিন আগে, প্লুটোরা প্রশ্ন তুলেছিলো- এই পৃথিবীটা কি সাপোর্টিভ নাকি ডিপোর্টিভ? সেদিন তার উত্তর দেয়ার মতে আমার কাছে কোনকিছু ছিলো না, বাট আমি একটা উত্তর জানতে পেরেছি, দ্যাটস্ ডিপেন্ড অন ইওর ফিলিংস, ইউ নো! হয়েন ইউ অনলি ফিল দ্যা সাপোর্ট দ্যান ইটস্ সাপোর্টিভ & হয়েন ইউ অনলি ফিল দ্যা ডিপোর্ট দ্যান ইটস্ ডিপোর্টিভ, এভরিথিং ডিপেন্ডস্ অন ইউ, মাই চয়েছ ইজ টু স্টে, বোথ অব দ্যাম, বিকজ" যারা আমাদের কে ডিপোর্ট করছে তারাও কোন না কোন ওয়েতে আমাদের কে সাপোর্ট করার চেষ্ঠা করছে।
দ্বিতীয়ত, ধরে নাও তুমি ইনফোডেমিওলজির কোন প্যার্টানে নিজের কক্ষপথ ভুলে গেলে, তোমাকে কয়েকটা ওয়ার্ড দিয়ে নিজের কক্ষপথ খুঁজে বের করতে বলা হল! বলা হল মুখস্ত অথবা মুখস্থের মধ্যে কোন একটিকে সিলেকশন করতে। ইনফোডেমিওলজির পথে হাটলে, মানুষের পঞ্চেন্দ্রিয় দুইভাবে কাজ করে, একটা হচ্ছে জ্ঞানেন্দ্রিয় আরেকটা হচ্ছে কর্মেন্দ্রিয়। জ্ঞানেন্দ্রিয় পাঁচটি হচ্ছে- চক্ষু(দৃষ্টি-ভিজ্যুয়ালিটি), কর্ণ(শ্রবণ-লিসেনিং), নাক(নাসিক্য-স্মেল), জিহব্বা(স্বাদ- টেস্ট) ত্বক (অনুভুতি-টাচ্/ফিলিংস) এগুলো আমাদের দেহে সফটওয়্যারের মত কাজ করে, যার কোডিং করেছে মহাজাগতিক শক্তি। আর কর্মেন্দ্রিয় পাঁচটি হচ্ছে- হস্ত(হাত-হ্যান্ডস্) পদ(পা-লেগস্) বাক(কথা-ভয়েস) পায়ু(পয়ঃনিস্কাশন-রেমমিং), উপস্থ(কাম-যৌনতা)। এগুলো আমাদের দেহে হার্ডওয়্যারের মত কাজ করে, যাদের কে নিয়ন্ত্রন করছে আমাদের জ্ঞানেন্দ্রিয়।
আর আমার ছোটভাই নাহিদ, জ্ঞানেন্দ্রিয়(সফটওয়্যার) ও কর্মেন্দ্রিয়ের(হার্ডওয়্যার) রিয়েল-টাইম নিয়ন্ত্রন করতে গিয়ে নাকি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট হয়ে উঠেছে। এদিকে একজন জননন্দিত কথাসাহিত্যিক স্যার নাকি মুখস্ত আর মুখস্থ এর মধ্যে পার্থক্য খুঁজে ফিরছেন। তাবিব ভাই ব্যাকরণ ঘেটে আমাদের জানালেন, যেসব শব্দের শেষে স্ত আথবা স্থ রয়েছে সেসব স্পেশাল ওয়ার্ড। একটার শেষে অন্তঃস্ত রয়েছে যা আমাদের কর্মেন্দ্রিয়ের দিকে নির্দেশ করে অপরটি রয়েছে আত্বঃস্থ যা আমাদের জ্ঞানেন্দ্রিয়ের দিকে নির্দেশ করে। সুতরাং কি দাড়াচ্ছে? আমরা যখন পড়ি তখন কিন্তু আমাদের মুখস্থ করার কথা বলা হয়, মানে জ্ঞানেন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করার কথা বলা হয়, আর যেটা পড়ছি সেটাকে রেন্ডমলি ইউজ করার জন্য বাকযন্ত্রে আত্ব:স্থ করার কথা বলা হয়। অপরদিকে আমরা যখন মুখস্ত বলি বা করি তখন তা আমাদের কর্মোন্দ্রিয়ে (হার্ডওয়্যার) সংঘটিত হয় যা মুলত আমাদের অন্তঃস্ত বা জ্ঞানেন্দ্রিয়ের রেপিটেড এ্যাকশন, সহজভাবে একই কাজ বারবার করা (পুনরাবৃত্তিমুলক কাজ) এখন নিশ্চয়ই বিসিএসের কোয়েশ্চিনে আসতে পারে কোনটি সঠিক? মুখস্ত নাকি মুখস্থ! হায়রে বিসিএস বড় ভাই, রেপিটেড টাস্ক পালন করতে করতে তোমরা রেপিটেড এ্যাকশনাল হয়ে গেছ? মাল্টিক্রিয়েটরিয়াকে প্লুটোর মতো ডিনাই করে দিলে।
এবার ফিরে যাই, "ডনট্ জাজ এ বুক, বাই ইটস্ কভারে। ইংরেজী ইডিয়মের একটা মেটাফোরিক্যাল ফ্রেস হচ্ছে ডনট্ জাজ এ বুক বাই ইটস্ কভার। ইটস ট্রু দ্যাট ইউ ক্যান, জাজ এ বুক বাই ইটস্ কভার হয়েন ইউ নীড। কারন ভালো একটা বইয়ের নাম আর প্রচ্ছদেই কনসেপ্টটা থ্রো করা থাকে। যদি তুমি ট্যাগলাইনটা আর প্রচ্ছদটাকে কনফিডেন্টলি ডিকোড করতে পারো। ১৮৬০ সালে জর্জ ইলিয়ট প্রথম তার সাইকোলজিক্যাল ফিকশন "দ্যা মিল অন দ্যা ফ্লসে" ইডিয়মটা প্রথম প্রকাশ করেন। এরপর ১৯৪৬ সালের মাডারমিস্ট্রিতে ইডিয়মটি পপুলারাইজ হয়। ইডিয়মটি সহজভাবে যা ইভুলেট করে তা হল, শুধুমাত্র দেখে কোনকিছুকে বা কারো মুল্য নির্ধারন করতে যেও না।
ওহহো, এ তো যন্ত্রণা প্লুটোরা এতো প্রশ্ন করে কেনো? কি হইছে? তোমাদের কক্ষপথ খুজঁতে গিয়ে, হাওয়াই জলের গাড়িটা নিজেই কক্ষপথ হাড়িয়ে ফেলেছে? মারজুক দা, তোমার গোল্লা আর কতদুর? জলের গাড়ির জল শেষ হলে, জল পাবো কোথায়? মহাশূন্যে কি জলের ফিলিং স্টেশন আছে? গোল্লায় গিয়ে পৌছাইতে পারবো তো? গোল্লায় নাকি ওরা রকমারি ভাবে ঝুলে থাকে?
হেলাল মহিউদ্দীনের ফেসবুক পেজের একটা উক্তি-
"যৌথজীবন বিষয়ে আমার মাথায় একটি বিচিত্র দর্শন ঘোরাফেরা করে।
দর্শনটির নাম রেখেছি "রিভার্স গেইম থিওরি"। টিকে থাকা যৌথজীবনই একমাত্র গেইম
—একমাত্র প্রতিযোগিতা—যেখানে ‘প্রতিপক্ষই স্বপক্ষ’!
Don't judge a book by its cover" is a proverbial expression advising against forming opinions or making assumptions about someone or something based solely on outward appearances. It emphasizes the importance of looking beyond superficial traits to understand the true nature or value beneath. The saying encourages open-mindedness and a deeper exploration before making judgments.
বিমূর্ত:




Comments
Post a Comment