অন্ধকারে নিরবতা

গোধুলীর লেনাদেনা;

 ঐ যে দেখছো, গোধুলীর আকাশ, একটু পরেই সুর্য অস্ত যাবে, গাঢ় অন্ধকারে ছেয়ে যাবে আবির মাখানো ঐ আকাশটা, তারপর তারারা এসে আলোকিত করবে একটু একটু করে, আর আমি ঠায় দাড়িয়ে থাকবো এই মাঠে, এই ব্যাস্ত মাঠটাও একটা সময় আস্ত খালি হয়ে যাবে, চুকে যাবে মানুষের দৈনন্দিন লেনাদেনা, কিন্তু আমি স্তব্ধতার কথা শুনবো, পাখিদের দলবেধে নীড়ে ফিরে যাওয়া দেখবো, কখনো হাটবো, নিজের সাথে কথা বলবো, সবার সাথে সব কথার শেষ হয়! নিজের সাথে কথা বলা শেষ হলো না আমার? কে তুমি আমার সাথে কথা বলছো? আমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছ? সবাই ছেড়ে যাচ্ছে! কই তুমিতো ছেড়ে যাওনা! কে তুমি? 

সন্ধার অন্ধকার


আমি তোমাকে দুচোখ ভরে দেখতে চাই, তোমার যে কথা মনে বেজেই চলছে সে কথা কান দিয়ে শুনতে চাই। তোমার স্পর্শ অনুভব করতে চাই। এই সন্ধার নৈশ্বর্গ আজ যে অন্ধকার নামিয়ে আনছে, ধরিয়ে দিচ্ছে চির ভয়, সেই ভয়ের কুৎসিত রুপটা কি তুমি দেখেছ? না দেখে থাকলে যে কোন এক সন্ধায় দেখে নিও। এই সন্ধা, এই অন্ধকার, এই কুৎসিত ভয় সবই আমি তোমার কাছ থেকে পেয়েছি। আমি তোমার কাছে একটু কেয়ারিং আর শেয়ারিং চেয়েছিলাম, অথচ পেলাম সন্ধার নৈসর্গিক অন্ধকার। সেই অন্ধকার আজ আমার মধ্যে স্তব্ধতা আর স্থবিরতা এনে দিয়েছে। শুনেছিলাম মানুষ ভালোবাসার কাঙ্গাল, পৃথিবীতে যারাই ভালোবাসার কাঙ্গাল তারাই একধরনের ম্যান্টাল টর্চারের শিকার। ম্যান্টাল টর্চার অসংখ্য অন্যায়ের মধ্যে অন্যতম, কিন্তু এই অন্যায়ের কোন বিচার শালিস হয় না। কারন এটা হচ্ছে হিউম্যান কোর ফাংশনালিটির একটা বড় অংশ, কারো ভালো চাইতে গেলে তার সাথে একধরনের মানসিক খেলায় মানুষ মেতে উঠে। এই ব্যাপারটা পিতামাতার ভালোবাসায়, সন্তানের প্রতি দেখা গেলেও এ অনান্য ক্ষেত্রে আরো হাইডেনলি সম্পন্ন হয় যেটাকে এই সময়টা বলছে গ্রোমিং। মুলত আমাদের এ্যাক্টিভিটির অনেক কর্মকাণ্ডই ঘটে, এসব গ্রোমিং এর শিকার হয়ে। খুব অল্প সংখ্যক মানুষ আছে যারা গ্রোমিং বিষয়টা বুঝতে পারে, আর কেউ যদি তার প্রতি কারো গ্রোমিং ধরতে পারে তাহলে মানুষ নতুন কিছু অভিজ্ঞতার সাথে পরিচিত হয়, সেটা হল, আমি কিছু জানিনা, এই পথ তো আমি তোমাকে দেখাইনি, টাইপের প্রতিউত্তর আর হাজারটা অভিজ্ঞতার অজুহাত। যাকগে গ্রোমিং এর অনেক ভালো ফলাফলও রয়েছে সেজন্যই হয়তো কিছু কিছু মানসিক টর্চারকে নির্মল অত্যাচার হিসেবে কাউন্ট করা হয়। গ্রোমিং ব্যাপারটাকে আরো ডিপইনসাইড থেকে দেখাই ভালো, ধরে নাও আজকের সুন্দর ছায়াঘেরা কোন বড় গাছ, ক্লান্ত দুপুর রোদে শীতল ছায়া দিচ্ছে, যে গাছটার চারাটা লগিয়েছিল তোমার বাবা, তাকে তোমার দাদু বলেছিল, এখানে একটা গাছ লাগালে একদিন অনেক বড় হবে, ডালপালা হবে, ছায়া দেবে, জায়গাটা একটা সময় সবুজ মায়ায় ভরে উঠবে! এখন যদি বলি, তোমার দাদুর গ্রোমিং এর জন্য তুমি এই গাছটা পেয়েছ, মোটেও অদ্ভুত শোনাবে না। মজার ব্যাপার হল, গ্রোমিং চ্যানেল গুলো যখন এ্যাকটিভ থাকে আর সেটা যদি অনুভব করা যায়, তাহলে মানুষ নিজেকে সেফবোধ করে। অপরদিকে গ্রোমিং চ্যানেলগুলো ডিএ্যাক্টিভ হলে, মানুষ নিজেকে অসহায় ভাবা শুরু করে। 


যা চাই তা পাই না- যা পাই সেটা ভুল করে চাই;


গ্রোমিং এর সবচেয়ে ডেন্জেরাস এটাম্প হচ্ছে একজন মানুষ আরেকজন মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহনে মুখ্য হয়ে ওঠা। ফলে সিদ্ধান্তহীনতা ও দ্বিধা-দন্ডের মতো কমপ্লেক্স ও অব্সট্যাকেল সিচুয়েশন তৈরী হতে পারে। এ প্রসঙ্গে একটা উক্তি আছে, যা চাই তা পাই না- যা পাই সেটা ভুল করে চাই। গ্রোমিং এর এই জটিল ব্যাপারটা হিউম্যান কন্ডিশনের উপর ভিত্তি করে ডিলিট করে দেওয়া যায় কারন হিউম্যান ইজ মোর কমপ্লেক্স দ্যান থিওরিস্। গ্রোমিং মুলত পারিবারিক পর্যায়ে খুবই সহজ সরল ভাবে দৃশ্যমান এবং গ্রহণযোগ্য। এটা যতই ব্যাপ্ত হয় ততই অদৃশ্য হয়ে যেতে থাকে। 


কৃষ্ণচুড়ার বিদায় মঞ্চ;


দেখ আজ সেই গ্রোমিং আমাকে এই ব্যাস্ত মাঠে এনে দাড় করিয়েছে। ঐ যে শহিদ মিনারের পাশে ছোট্ট কৃষ্ণচুড়া গাছটা, ওখানেই আমি ঠায় দাড়িয়ে থাকবো, সেদিন অসংখ্য কৃষ্ণচুড়ার আগুন লাল সৌন্দর্য যে বিদায় মঞ্চ সাজিয়েছিলো, একটা ঝড় আমার পায়ে বিছিয়ে দিয়েছিলো কিছু ঝড়ে পড়া কৃষ্ণচূড়া, কই আমিতো কৃষ্ণচুড়া চিনতাম না? তুমি আমাকে চিনিয়েছ! পুজোর অর্ঘের মতো সেদিন পথ থেকে পরম যত্নে কয়েকটা কৃষ্ণচুড়া তুলে নিয়েছিলাম, মনোযোগ দিয়ে দেখেছিলাম প্রতিটা কৃষ্ণচুড়ায় একটা কুইন পাপড়ি থাকে, যেটা অন্য সকল পাপড়ি থেকে একদম আলাদা, বিশ্বাস করো কেউ জানুক আর না জানুক ঐ কুইন পাপড়িটাই কৃষ্ণচুড়াকে এতো সুন্দর করেছে। আর আমি নিজেকে জ্বালিয়ে কবিতা লিখি, কেন লিখছি, কার জন্য লিখছি? আমি আর কবিতা লিখবো না। আমার পুজার অর্ঘটাকে পথের ধুলায় লুটিয়ে কি কবিতা লিখবো, যেটা আমার সেটাকে আমি বুকে নিয়ে চলতে চাই, ওটা একান্তই আমার। গীতাঞ্জলীতে খুব সুন্দর কয়েকটা লাইন ছিলো,


        এই যে তোমার আড়ালখানি

            দিলে তুমি ঢাকা,

        দিবানিশির তুলি দিয়ে

           হাজার ছবি আঁকা-

        এরি মাঝে আপনাকে যে,

            বাঁধা রেখে বসলে সেজে

        সোজা কিছু রাখলে না, সব

            মধুর বাঁকে বাঁকা।





Comments