গড়িমসি
পৃথিবীতে কত মোটিভেশনাল স্পীকার, ইউটিউবে, ফেসবুকে, পত্রপত্রিকায়, রেডিও টেলিভিশনে, তাদের আবার অনেক বড় বড় ওয়েব লিংক, স্ক্রল করতে করতে মাথা ব্যাথা। কিন্তু আমাদের মানসিকতা এমন একটা অবস্থায়, এমন এক পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে, আজকাল মোটিভেশনের নাম শুনলেই ভয় লাগে! ভাই তুই দুরে থাক, তেরি মোটিভেশন কি তো,,, এ্যায়সি কি ত্যায়সি! কিন্তু আমাদের ভেতর মোটিভেশনের অভাব রয়েছে, এটা সত্য। ছোটবেলাতেই এই লেকিংসের শুরু, একটা পর্যায়ে আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রিটেন্ট করতে থাকি। ইভেন কেউ যদি আমাদের বলে, ভাই তু বহৎ স্পেশাল হ্যা, তু খুদকো যো সামাঝতাহ্যা- ও তো তু হ্যায় নেহি! খুদকো কাহি অর ছুপাকার ঢুন্ডতা কাহি অর হ্যা। আমরা তাও বুঝতে পারি না, মোটিভেশন আর কোর্সের চক্করে ওপেনসোর্স ভুলো যাচ্ছি। যেখানে ওপেনসোর্সে প্রফেশনালরা আরো বেশি উইলিংলি কাজ করছে সেখানে আমরা কোর্সের পাহাড় বানিয়ে সেখানে তা দিচ্ছি, ডিম ফুটে বাচ্চা বেরুনোর আশায়।
চোখের সামনেই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় অথচ আমরা পরে আছি, ডিম আগে না মুরগি আগে। এধরনের আনএ্যাওয়ার ইনভায়রনমেন্ট এর জন্য কেউ এবাট্রাক্ট নলেজ শেয়ার করছে না, কেউ রিজনিং করছে না, সবাই যেন জাবর কাটছে!
যাকগে, ছোটবেলায় পাওয়া কোন ধরনের মানসিক আঘাত, মানুষের জীবনে ফেস করা প্রবলেমের মধ্যে সবচেয়ে কমন। আর এটাই বোধয় সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ীরুপে টিকে থাকা একটি মেন্টাল ও ফিজিকাল হেলথ প্রবলেম, যা আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত আমরা নিয়ে যাই।
আসলে যারা গরিমসি করে তারা একধরনের গিলটি থেকে মোটিভেটেড হওয়া পারসন কারন তারা তাদের কাজকে এক্সিকিউট করতে কোন ধরনের কনসিসট্যান্ট
মোটিভেশন পায় না। ফলে তাদের কাজের মধ্যে এঞ্জাইটি ও গিলটি তৈরী হয় যা একটা সময় ফলশুন্য মনে হয়। এ ধরনের গড়িমসি থেকে বের হওয়ার জন্য নিজের মধ্যে থাকা অনেক কিছুর সাথে ফাইট করতে হয়। যেমন - ওভারথিংকিং, এঞ্জাইটি, প্যানিক ডিসঅর্ডার, কাজের প্রতি মনোযোগহীনতা, আরো অনেক কিছু। তবে এধরনের গড়িমসি থেকেই হাইপারএক্টিভিটি, সেল্ফ ক্রিটিক, পারফেক্টশনস্ ও ওয়ার্কোহলিকের মতো ভালো অভিজ্ঞতাও সঞ্চিত হয়।
আবার লেগে থাকা, আইডেন্টিটি কনফার্ম, সেল্ফ ডিপেডেন্স, এবং নো বাউন্ডারি থিংকিং এর মতো ভালো অনুভুতিও গড়িমসি ভাব থেকেই আসে।
যাকগে, গড়িমসি করা আসলে অলসতা না, সকল ধরনের ডিপ্রেশনের রিসপন্স হিসেবে আমাদের মধ্যে গড়িমসি ভাব আসতে পারে। গড়িমসি' আমাদের ইমোশনের নিয়মতান্ত্রিক সমস্যা। আমরা যখন আমাদের নেগেটিভ মুডকে কন্ট্রোল করে কোন কিছু করার চেষ্ঠা করি তখন এধরনের গড়িমসি ভাব চলে আসে, দ্যান আমরা ঐ কাজটা করতে যাই। একবার আমরা যদি এই সহজ সত্যটা জেনে নিতে পারি তাহলে আমরা জেনে যাবো এই গড়িমসি ভাবটা কই থেকে আসছে আর কেনো আসছে?
এই ধরনের গড়িমসি সাথে সাথেই ডিসল্'ভড করতে না পারলে আবার পূর্বের ন্যায় সময় অপচয় হতে পারে।
আমরা যদি একটু উৎসুক হয়ে আমাদের গরিমসির প্রবাহটাকে বুঝতে পারি তাহলে আমাদের স্টার্টিং পয়েন্ট থেকে একটা নতুন ধরনের এ্যাক্সেসম্যান্ট তৈরী হবে।
এদিকে ইন্টারনেটে কোর্সের অত্যাচারে জীবন সংকটাপন্ন, এক টাকার নিরানব্বইটা কোর্স। একটা নিদ্রিষ্ট সফটওয়্যারে কাজ করার জন্য চৌদ্দশ কোর্স, আর চৌদ্দশ কোর্সের চৌদ্দহাজার টিউটোরিয়াল। দেখতে দেখতে চুলদাড়ি সাফেদ, তারপর সেই চুলে কালার লাগাও, নিজেকে মোটিভেট করো, যাস্ট ফাকি_ং ব্যাহ্যাঞ্চো, তুম অর তুমহারা মাহান ইয়ে কোর্স, রেহ্যনে দো ভাই! আজকাল এই গড়িমসি নিয়েও কোর্স বের হচ্ছে, মাঝে মাঝে অবাক লাগে! ফেসবুকে "লিভেন বিউল্ডিং হ্যাবিট্স" নামে একটা পেজ এই কোর্সটি বুস্ট করছে।
কাছের একজনের পোষ্ট দেখলাম, ফেসবুকে ঢুকলে নাকি সুপারসপ সুপারসপ মনে হয়! আরে হ্যা ভাই কথা সত্য! আজকাল সেলিব্রেটিরা সরাসরি শো-রুম উদ্বাধন করতে যান না, শোরুমের পেজ থেকে একটা ইমো-সেন্টি পোষ্ট করেন, সেলিব্রেটিরা গিয়ে ওখানে একটু উষ্ণ হাওয়া ছেড়ে দেন, তারপর ইন্টারনেটের হুকাররা সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। পাবলিক বুঝতেও পারে না কি হচ্ছে! মানুষ যতই বাস্তবতার মুর্ত প্রতিক হোক, নিজের মধ্যে থাকা ইমো-সেন্টিমেন্ট কে সে পরম আদর যত্নে লালন পালন করে। একটা সময় সেন্টিমেন্টাল হয়ে প্যাথিটিক কাজকর্ম করে।
প্যাথি হয়ে ঘুমিয়ে থাকার চেয়ে সাহস করে ঝড়ের সামনে দাড়িয়ে থাকা ভালো, এতে অসহ্য বোধ হয় ঠিকই কিন্তু টিকে থাকার প্রেরণা পাওয়া যায়। হোক সেই প্রেরণা টা ক্ষুদ্র, অস্পষ্ট অথবা টিমটিমে আলোর মতো। দুহাত দিয়ে সেই আলোটাকেই বাচিয়ে রাখো, প্রতিটা প্যাথিটিক এটাকের জন্য, ভালোবাসার প্রতিটা মুখের দিকে তাকিয়ে। পাখিদের আকাশে উড়তে দাও, বিশ্বাস করো, ওরাই তোমার ভালো থাকার মন্ত্রনা জুগিয়ে যাবে।
ওহ আচ্ছা, ওটা কোর্স না, ওটা মাইন্ড থ্যারাপি' কোর্সের বাহুবলি'
আর কত এভাবে জ্বালাবে,
আর কত এভাবে জ্বলবে
আর কত হাহাকার কান্নার,
আর কত সংগীত চেতনার
বল সত্য বলো, ও হে,,,,(!!)
দিনগুলো অবেলায়, ছায়াপথে হেটে যায়
মুক্তির পথে সব চলো রে।

Comments
Post a Comment