সাহিত্যে ও সংস্কৃতিতে সুফিজম
গানের লিরিক;
প্রবন্ধ বা Composition এর দারুন ব্যাপার হলো যখন যা খুশি তাই বলা যায়। কবিতার ছন্দে কবিরা হাটতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে, গানের লিরিক্স লেখা সে তো আরো কঠিন। ইশরাক কামিলের লিকিক্সে প্রচুর জীবনী শক্তি রয়েছে, বাংলা ব্যান্ডের লিরিকগুলোতে রয়েছে এই সময়ের অনুভুতি। হাইওয়ের ছায়া গানটায় লিরিকটা কে লিখেছে? কি সুন্দর অদ্ভুৎ অনুভুতি দিয়ে যায়। গানটার মুলভাবটা লিরিসিস্ট খুব যত্ন করে প্রচ্ছন্ন করে দিয়েছে। সহজভাবে একটা বড় কম্পোজিশনের উদৃত মুলভাবকে কবিতায় লুকিয়ে ফেলা হয় আর গানে ভাবের সহায়তায় সেটাকে আরো প্রচ্ছন্ন করা হয়।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি মুলত সুফিজম দ্বাড়া পরিস্ফুটিত। সাহিত্য ও সংস্কৃতির শিরায় শিরায় রয়েছে সুফিজমের আবাসস্থল। একটা সময় ভারতবর্ষে কথায় কথায় প্রচুর শের-শায়রী, প্রবাদ-প্রবচন, বাগ-বিধি, ও নানান গীতিকবিতার রসবোধ চর্চা করা হতো। শের-শায়রীর নিত্য যোগান দিতো, অসংখ্য বাউল সুফি সাধক ও সাধারন মানুষ। সাধারন মানুষের নিত্য নৈমিত্তিক নানান ভাবগতি উঠে আসতো সাহিত্য সংস্কৃতির আলোচনায়। যেসব বিষয় নিয়ে মানব মনে অন্ধত্ব তৈরী হতো, সেসব বিষয়ে সহজ সরল বিচরন ছিলো সুফিজমের আর এজন্যই বোধয় বাংলা ভাষার স্বগোত্রীয় সকল ভাষায় রচিত অসংখ্য সুফিবাণী, গীতিকবিতা, দেহতত্ত্বের গান, প্রবাদ উক্তি মানব মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। যেমন: ‘’প্রথমে দর্শনধারী, পরে গুনবিচারী’’। এই ছোট্ট একটা লাইনে হিউম্যান বিয়েভেয়ারের একটা বড় কন্ডিশনের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে শেখ সাদীর একটা গল্প আছে, তিনি কই জানি সাদামাঠা পোশাকে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে যখন কোন কদর পেলেন না, তখন নিজেকে বদলে ঝিকঝাক পোষাকে উপস্থাপন করলেন আর রিয়ালাইজ করলেন, মানুষ- প্রথমে দর্শনধারী পরে গুনবিচারী। এটা কিন্তু শুধু ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং না, এটা হচ্ছে হিউম্যান ডিসিশন মেকিং কন্ডিশনের একটা বড় সল্যুশন। ব্যাপারটা হচ্ছে, প্রতিটা মানুষের ম্যান্টাল কন্ডিশন, জীবনাচরনের ছোট বড় অনেক দর্শনের সমন্ময়ে রচিত হয়। ছোট ছোট এই জীবনদর্শনই তাকে ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক, সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করতে সাহায্য করে যা তার সমগ্র জীবনাযাত্রা পরিগ্রহ করে এবং একটা পরিপূর্ণ জীবনদর্শনের পথে নিয়ে চলে।
যাইহোক, সুফিজম হচ্ছে এক ধরনের অনুশীলন যা মানবদর্শনের সুপ্ত ব্যাপারগুলোকে নারচারিং করে, নিজের ভালো অনুভুতিগুলোর খেয়াল রাখে। এই সভ্যতার দর্শনে প্রচুর সুফি সাধকের পদচারনা রয়েছে। আচ্ছা সুফিদের আত্বঃ অধ্যতিক পদচারণা আর বাউলদের দেহতাত্ত্বিক নিগূঢ় কথা বলার মধ্যে তেমন একটা পার্থক্য কি আছে? সুফি’ শব্দটা শোনামাত্রই অনেকের কল্পনায় চলে আসে জালাল উদ্দিন রূমির হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কিছু শব্দমালা-
“আমি প্রভুকে বললাম,
আমি তোমাকে জানার আগে মরবো না!
প্রভু উত্তর দিলেন,
যে আমাকে জানে সে কখনো মরে না!”
রুমির এই পুরো কথার ভাবটা লুকিয়ে আছে একটা বাউল গানে- ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলামনা ব্যাপার’। এরকম আরো অনেক ব্যাপার বাউল সংস্কৃতি আর সুফি সাধকেরা খুব সহজভাবে কোনধরনের দার্থবোধকতা ছাড়াই একে অপরকে ক্রসপেন্ডিং করেছে। মুলকথা হল সুফিজমের আত্বঃঅধ্যাতিক সচ্ছ পদচারণাকে অনেকেই আধিভৌতিক ভেবে হালকা করে ফেলে আর বাউলদের দেহতাত্ত্বিক নিগূঢ় উপলব্ধিকে অনেকে পাগলামি ভেবে উড়িয়ে দেয়। অথচ বাংলা সাহিত্যে সংস্কৃতির বিশাল একটা অংশ এই সুফিজম আর বাউলদের ঘিরে।
এদিকে সোসাল মিডিয়া খুললেই সাহিত্যে ও সংস্কৃতি রক্ষার নামে যে মিটিং মিছিল আর মেলায় যে সার্কাস দেখানো হয় বা শোনা যায় সেখানে দিনশেষে ভাষা রক্ষার নামে দোষ দেয়া হয় শব্দের, সঠিক ব্যবহারের নামে উপস্থাপন করা হয় ভাষার দৈনতার, সাহিত্য সংস্কৃতির এতো উৎকর্ষ সত্বেও নিত্য এই দৈনতা এক অমীমাংসিত সময়ের দিকেই নিয়ে যায়।
Sufism has deeply influenced Bangla folk literature, enriching it with mystical themes and spiritual insights. Folk songs, stories, and rituals often incorporate Sufi motifs and teachings, providing a spiritual framework for understanding life's mysteries and challenges. This integration of Sufi elements into folk literature has helped preserve and propagate Sufi ideals among the masses.
কী-ওয়ার্ড:
সুফিজম, প্রবন্ধ, কবিতা, গান, ভাবের প্রচ্ছন্নতা, শের-শায়রী, প্রবাদ-প্রবচন, বাগ-বিধি, গীতিকবিতা, রসবোধ, সুফী, সুফীবানী, বাউল, জালাল উদ্দিন রুমি, ভাষার দৈনতা, দেহতত্ত্ব, Folk Literature, Sufi Elements, Sufi ideals, Spiritual Framework.
উপজীব্য:
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সুফিজমের প্রভাব, বাউলদের দেহতাত্ত্বিক নিগূঢ় পথচলা, সুফিজমের আধ্যাতিক জীবনদর্শন, হিউম্যান ডিসিশন মেকিং কন্ডিশন,

Comments
Post a Comment