ইনসানিটি
দ্যা অফ টপিক
সেদিন মাঠে বন্ধুরা তিনকার্ড খেলছে, আমার বন্ধু চৌধুরী সাহেব মুখে একটা বিড়ি নিয়ে আর চোখে তাকাতেই খেকিয়ে উঠলো, কিয়া বে' তুই ইশারায় খেলাটা চালাতে চাচ্ছিস, ধর্ম বলে একটা কিছু তো থাকা উচিৎ তাই না? এমপি সাহেব ওকে সান্তনা দিচ্ছেন শোন বন্ধু ধর্ম শেখাবি না, ওটা তোর খুকীদের ভোলানো লজেন্স না, ওটা আরো বড় কিছু! বেকুব? ওটা ধর্ম, খুব ঠুনকো কোনকিছু নয়?
আমি পাশ থেকে হাসি আরে বন্ধু জুয়ার বোর্ডে বসেছ আর ধর্ম নিয়ে পরে আছ? তোমরা এই দুমুঠো ভাত আর ঐ জুয়ার আসরটাকেই তোমাদের ধর্ম ধরে নিলে, তোমাদের এধরনের চিন্তা আজ আমাদের হাতপা বেধে রেখেছে। তুমি যদি মানুষ হও, মানবিক ভাবে চিন্তা কর। মানুষ শব্দটা কখনোই একটা সিঙ্গেল ইটারনিটির কথা বলে না এই শব্দটা নির্দেশ করে প্রতিটি ব্যাক্তিকে, এবার তুমি বলবে ভাই আমিতো ব্যাক্তি আর মানুষ শব্দটার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য খুঁজে পাই না।
এমপি সাহেবের ঐ কথায় চৌধুরী সাহেব হুক্কাহুয়া শুরু করে দিলো, আরে বন্ধু এই ধর্ম নিয়ে টানাটানি করেই তো তোমরা মানুষকে আজ সিঙ্গেল ইটার্নিটিতে নিয়ে এসেছ, অন্তত তুমি যে কর্মে নিজেকে পরিচালিত করছ সেখান থেকে তোমার মানুষ শব্দটাকে বোঝা উচিৎ আর এই মানুষের ধর্মটা এত ঠুনকো কোনকিছু নয় যে আঘাত করলেই ভেঙ্গে যাবে, এটাতো বর্মের মতই সহনশীল। যা কিছু দিয়ে আঘাত কর, সেটাই ভেঙ্গে যাবে কিন্তু ধর্ম কখনো ভাঙ্গবে না। তোমার ধর্ম যদি এত ঠুনকো হয়, নুরেদের ছোট্ট একটা আঘাতেই যদি ভেঙ্গে যায় তাহলে ভয় পেওনা, আজ নয়তো কাল সেটা ভাঙ্গবেই, তবে কোথায় কি ভেঙ্গে যাচ্ছে যাক! যে মানুষটা টিকে থাকবে তার ধর্ম সম্পর্কে সে সম্পূর্ণ অবগত।
এবার বন্ধু রাজিব হাসে, এই যে সিস্টেম দেখছিস এর মধ্যে যা কিছু আছে- জাত,ধর্ম,সমাজ,দেশ, সবকিছু এমনকি আমাদের ইউনিফর্ম সবই প্রতিমূহুর্তে আমাদের দিনকানা করে তুলছে আর যাতাকলে পিশেই চলছে অথচ সবকিছুর মৌলিক উদেশ্যই নাকি এই মানুষ, এটা খুবই হাস্যকর। সেদিন যখন এই পিশাচকলে নিষ্পেষিত হওয়ার সময় কিছু সুর্যসন্তান বুঝতে পেরে হইচই শুরু করলো, তোমরা কি করলে? ঐ সুর্যসন্তানদের হারিয়ে ধর্মের দ্বীপ জ্বালাতে গেলে! আজ ঐ দ্বীপের আলো এত সংকীর্ণ হয়ে এসেছে নিজের ভেতরে থাকা কুৎসিত রুপটিকে সে আর আলোকিত করছে না, অন্ধকার আরো গুমোট আকার ধারন করছে এতো প্রচ্ছন্নতার অমানিশা।
আমার হুট করেই মনে হল, আচ্ছা আমরা আদিকাল থেকে কি শুধুই অন্ধকার বয়ে নিয়ে এসেছি? কোন ধর্ম শাস্ত্র কি এতটুকু আলো বয়ে নিয়ে আসেনি? কই সে আলো? ঐ আলোটা আমার নিজেরই ভেতরের গুমোট অন্ধকারটাকে আলোকিত করতে পারছে না। ঐ আলো তো এতো সংকীর্ণ নয়! তাহলে কি এত কষ্ট করে হাজার হাজার বছর ধরে আমরা বলদের মত ঐসব ধর্মশাস্ত্র বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি?
চৌধুরি সাহেব বিড়িতে একটা টান দিয়ে একগাল ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে উঠলো, আরে কি বলছিস বন্ধু এসব! আলো নিয়ে এসেছি না? কতো আলো, ধরে নাও সিস্টেম আমাদেরকে ভালো যা কিছু দিয়েছে সবই ঐ আলো। এবার সেই আলোটা কতটুকু তুমি পেলে সেটা ইম্প্যাক্টফুল বাকি সব আজাইরা।
এমপি সাহেব আওয়াজ দিল, সবই ঠিক আছে, সমস্যাটা কোথায়? সমস্যা আমাদের মনে, আমরা জানলাম একই শ্রষ্টা এই পুরো পৃথিবী সৃজন করলো, অথচ সেই স্রষ্টাকে আমরা নানান রুপে সাজিয়ে তার উদ্যেশে মাথা নোয়ালাম আর ভুলে গেলাম স্রষ্টার অপরুপ এই সৃষ্টিকে, যেনো স্রষ্টার এই মহাসুন্দর সৃষ্টির মুখে থুথু দিয়ে স্রষ্টার মন্দিরে ধুপকাঠি জ্বালানো! ওরে বেকুব স্রষ্ঠার কোন জাত পাত নেই, তিনি একজনই, ঐ পরমেশ্বরকে কেন তুমি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, আর গোত্রের গন্ডিতে বেধে ফেলছ। আজ তোমারই কোন ভাইয়ের ছোয়ায় ঐ পরমেশ্বর অপবিত্র হয়ে পরছে! এতো ছোট নয় তোমার খোদা। আমরা আমাদের খোদাকে সংকীর্ণ করতে করতে এত সংকীর্ণ করে ফেলেছি, আমাদের নিজ প্রাণেই যে ইশ্বরতা বিরাজ করছে সেটাই ভুলে যাচ্ছি ফলে আমাদের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা গুলোর মধ্যেই এক নতুন ইশ্বর সৃজন হয়ে গেছে। এভাবে যদি ধর্মের সিস্টেম নিয়ে জুয়াখেলা চলতেই থাকে তাহলে এই জুয়াড়ি জাতির ভাগ্যে আরো যে কত দুঃখ, দুর্দশা রয়েছে সেটা সময় হলেই টের পাবে। কথাটার শেষ করতে না করতেই এমপি সাহেব হেসে বলে উঠলো,,,

Comments
Post a Comment