ভাষা শাসন
দুইটি যৌগিক স্বরবর্ণ হল ঐ আর ঔ তিন নম্বার যৌগিক স্বরবর্ণ হল ঋ। এ'পথে যাও! বলতো কোন পথে যাবে? ঐ পথে! ঠিক এভাবেই- নিয়ম মেনে ওষুধ খাও' বলতো নিয়ম মেনে কি খাবে? ঔষুধ!
আমরা বুঝলাম যৌগিক স্বরবর্ণ ঐ,ঔ হচ্ছে মৌলিক স্বরবর্ণ এ আর ও এর যৌগিক রুপ! তাহলে যৌগিক স্বরবর্ণ ঋ এর মৌলিক রুপ কোনটি? বর্ণমালায় আমরা সেটা খুঁজে পাচ্ছি না কেন?
ঋ এর সামনে একটা ৯নয়'কার বা হোস্বরী ছিলো ওটা কোথায়? ভাষা শাসন করতে কারা যেন খেয়ে ফেলেছে! হোস্বরী টা দরকার নয়তো ঋ এর যৌগিকতা বোঝা যায় না? ঋ এর মৌলিক হচ্ছে ৯ হোস্বরী? ঐ হোস্বরীটা না বুঝে মিশিয়ে দিলে কেনো?
পন্ডিত দাদু বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, লাঠিতে ভর দিয়ে চলছেন। সময়ের ভার তার কোমর কে ঋজু করে ফেলেছে। ঋজুতায় জমে থাকা জ্ঞান যখন তাকে নাড়া দেয় দাদুর মাথাটা সোজা হয়ে যায় ঠিক এ সময় দুর থেকে দাদুকে দেখতে ঐ (৯) হোস্বরীর মত লাগে। কাছে গেলে শোনা যায়, দাদুর এই হোস্বরী অবস্থায় যা বলে তা অমৃত স্বাদের। সেদিন গাছতলায় দাদু হোস্বরী হয়ে ঋতুর গল্প বলছিলো, গ্রীষ্মের চৈত্র সংক্রান্তি আর দাবদাহ, বর্ষার গর্ভবতী নদী-মাটি ও জলের খেলা, শরৎ সকালের খোলা আকাশ, হেমন্তের নবান্ন , শীতের কম্বলে মৃদু উষ্ণতা, বসন্তের পাতাঝড়ার শব্দ, দাদু যত গল্প বাড়ান বাচ্চাদের কৌতুহল বেড়েই যায়, তারা দাদুকে একটার পর একটা প্রশ্ন করতে থাকে, আর দাদুর গল্প দীর্ঘায়িত হয়ে চলে।
আহা! দাদু বেলা পড়ে এলো, তোমার ঋতুর গল্প এখনো শেষ হলো না, দাদু তোমার বিদার্থীরা কি ঋতু বুঝতে পেরেছে?
কোন শব্দ তৈরীতে সরাসরি হোস্বরীটা ব্যবহার হয় না, কিন্তু হোস্বরী ছাড়া ঋষি দাদুর ঋতুর গল্প শেষ হচ্ছে না! আচ্ছা দাদু ঋতু কি কোন টাইমস্কেল নাকি প্রকৃতির রুপ?
ঠিক যে নিয়মে আমরা হোস্বরীটা মুছে দিয়েছি একই নিয়মে আ' কেও মুছে দেয়া যায় কারন, অ এর সাথে া'কার দিলেই আ হয়ে যায়। কিন্তু হাজার বছর ধরে আমরা আ কে একক মৌলিক বর্ণ হিসেবে ব্যবহার করে আসছি। আচ্ছা এই আ' মৌলিক হল কিভাবে? দেখা যাচ্ছে আ হচ্ছে, অ এর যৌগিক রুপ? কিন্তু আ কে মৌলিক কেন বলা হচ্ছে?
মনে পড়লে আজ থেকে মোটামুটি দু'হাজার বছর আগে শঙ্কর আচার্য তার গাছতলার পাঠশালায়, আ এর দ্বৈতকতা সরিয়ে আ কে মৌলিকতা দিয়েছিলো, বলেছিলো আজ থেকে আর তোমাদের ভেদ বুঝতে হবে না, তুমি যদি আ থেকে সবধরনের দ্বৈতকতা সরিয়ে ফেলতে পারো তাহলে আর ভেদবিধি নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না এটা যদি তুমি করতে পারো, তখনই হবে ভেদের অন্ত, নয়তো ভেদ আবার ফিরে পাবে গতিহীন ধারা।
আচ্ছা, চাটগাঁয়ের লোকজ ভাষায় এত যুক্তবর্ণ, এত ্য'ফলার ব্যাবহার কেনো, নোয়াখালী, কুমিল্লা আর ত্রিপুরার ভাষায় ঐ চাটগাঁইয়াদের টান কিভাবে এলো?
উত্তরবঙ্গের লোকজ ভাষায় া'কার, ে'কার, ো'কার দিয়েই যেনো শব্দগুলোর নিঃস্পত্তি করা হয়েছে। সেদিন যে ঋষিরা ভ্রম-পুত্র পাড়ি দিয়ে পূর্বের দিকে পারি জমিয়েছিল তাদের কোন কিছু জিঙ্গেস করলে শুধু ঐ,ঔ,ঋ এসব দিয়ে কি যেন উত্তর দেয় হোস্বরীটা ছাড়া কিছুই বোঝা যায় না। আজকাল ঋষিদের কোন প্রশ্ন করলেই, বই এগিয়ে দেন। বইয়ের ভেতরের ভূত আজ ভুতের রাজ্য গড়ে তুলেছে। তাহলে উপায় কি? ভাষার মৌলিকতা কই খুঁজে পাওয়া যাবে, ভাষার মৌলিকতা রয়েছে মানুষের লোকজ ভাষায়, লোকজ ভাষাটাতে কখনোই ব্যাকরনের শাসন ছিলো না, হ্যা লোকজ/ মৌখিক ভাষার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ভাষার মৌলিকতা।
ভাষা শাসন শুরু হয়েছিলো ভাষার শুরুর দিকেই, যখন মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশে ব্যার্থ হয়েছিলে, যখনই কারো কথার দ্বৈতবোধকতা মানুষ টের পেয়েছিলো, যখনই মানুষ জেনেছিলো ভাষা দিয়ে মানুষকে আচ্ছন্ন করা যায়, ভাষা দিয়েই সত্যকে প্রচ্ছন্ন করা যায়, নিরুত্তরে উত্তর জাগানো যায়! যে ভাষা দিয়ে মানুষ নৈমিত্তিকতা মেনে চলছে সেই ভাষাই হয়ে উঠছে ঋষির বাণী। কিন্তু ঋষির বানীগুলো এমন ভাবে বলা ওগুলো বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে তেজপাতা। কিন্তু ঋষির বাণী যে আমাদের বুঝতেই হবে! কিভাবে বুঝবো? তোমাকে হোস্বরী হতে হবে। আমি হোস্বরী শব্দটাকে ভাঙতে চাচ্ছি না তবে এটা বলতে পারবো, হোস্বরীতে আমি নিজে রয়েছি, রয়েছে ইন্দিয়ের পরিপূর্ণতার নির্দেশ।
সেদিন বড়ভাই বউ দেখতে গেছে, ভাবীর বাড়ির লোকেরা বলেছিলো মেয়ে আমাদের চিকন চাল ছাড়া ভাতই খেতে পারে না। ভাইয়ের ঐসময়ের অনুভতিটা যখন রাতের আড্ডায় আমাদের বলছিলো, পুরো অনুভুতিটাই একবাক্যে বলে শেষ করে দিলেন,
এ্যাহ, শালা আ হয় গেইছে!
আজকাল বিবর্তনবাদের শেষ পর্যায়ে আমরা মানুষকে যে রুপে দেখি, ওটাকে যদি একটু ভালোভাবে খেয়াল করি তাহলে হোস্বরীর দেখা পাবো, কিন্তু আজকাল ছেলেমেয়েরা মধ্যবয়সেই হোস্বরীর মত হয়ে উঠছে, তারা ভুলে যাচ্ছে বিবর্তনের প্যাটার্ন। কেন? কারন কি?
কারন বাঙ্গালিরা অনেক আগেই বর্ণমালায় হোস্বরীটা মাঝখানে বসিয়ে ১২টা স্বরবর্ণের যে যে প্যাটার্ন তৈরী করেছিল তা আমাদের জানিয়ে দেয় এই স্বরবর্ণের প্যাটার্নটা ইউনিক, এটা আর কোন ভাষায় নাই, এই প্যাটার্ন দিয়েই ভাব কে ভেদ করা যায়।
#সব আত্বভোলাই হেসে উঠুক বৃহস্পতির হাঁসি!

Comments
Post a Comment