লুসিড ড্রিমস
ইনিগমা (The World of Sadness)
লুসিড ড্রিম শব্দটার সাথে পরিচয় ইনিগমার একটা মিউজিক থেকে। মিউজিকটা আমি এতো অসংখ্যবার শুনেছি, আমার বিশ্বাস মিউজিকটার যে কোন অংশ কয়েক সেকেন্ড শুনলেই চিনতে পারবো কিন্তু অনেকক্ষণ ইউটিউবে খুজেঁও যখন মিউজিকটা পেলাম না মনটা খারাপ হয়ে গেলো। লুসিড ড্রিম ব্যাপারটার প্রতি কৌতুহলের শুরু প্রিয়জনদের স্বপ্নে ঘটে যাওয়া ঘটনা শুনে। প্রথমত, কেউ যখন তার স্বপ্নের কোন ঘটনা শোনাতো, আমি অবাক হতাম, আরে, ঘুমন্ত অবস্থায় দেখা কোন স্বপ্ন, আমার কেনো মনে থাকে না? ঘুম ভাঙ্গতে না ভাঙ্গতেই স্বপ্ন হাওয়া। ভাবতাম ওরা বোধয় ইনিয়ে বিনিয়ে গল্প বলছে। তারপর নির্ঘুম কিছু রাতে কোন মায়াবিনীর বাসর, তার সেই হাসি যখন ক্ষতবিক্ষত করতো, ঠিক সেসময় জানলাম লুসিড ড্রিমসের কথা, পরিচয় হল প্রার্থনার সাথে। এক মহাসমুদ্র যন্ত্রনা উপহার দেয়া, কারো সুখানুভূতি , তুই সুখে থাক! জানলাম দুঃস্বপ্নের সেই শোভাযাত্রায় লুসিড ড্রিমসে চড়ে কিভাবে পাড়ি জমাতে হয় একটা দীর্ঘ রাত।
ব্যাচেলর পয়েন্টের এক ছোটভাইয়ের ভুতের গল্প শুনতে শুনতে ঘুমানোর অভ্যাস হটাৎ করেই মনে ধরলো, রাতজেগে কষ্ট করে বইয়ের পাতা উল্টিয়ে, লাইট জ্বালিয়ে বই পড়ার অভ্যাসটা আজকাল ইউটিউবে অডিওবুক আর থিওরিটিক্যাল লেকচার শোনার অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেলো। ভালো একটা বইয়ের মেটেরিয়ালস যেমন পাঠকের মনোসংযোগ কেড়ে নিতো তেমনই আজকাল ভালো কোন বইয়ের অডিওবুক শ্রোতার রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে।
আহাম্মেদ ছফার ওঙ্কার পড়েছিলাম অনেকদিন আগে, আহাম্মেদ ছফা অবশ্যই একজন অগ্রগন্য কথাসাহিত্যিক, তার প্রতিটা লেখায় সতন্ত্রতার ছাপ সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠে। গতকাল ইউটিউবে যখন সেই ওঙ্কারের অডিওবুক পেলাম, কোনকিছু না ভেবেই কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে প্লে করে দিলাম, বইটা যখন শেষ পরিচ্ছেদে পৌছালে, জানিনা কেনো প্রতিটা লাইন সারা ফেলছিল হৃদয়ানুভুতিতে, চোখ দিয়ে কয়েকফোটা জল গড়িয়ে পড়ে কোন কারন ছাড়াই!
মা, বাবা, ছেলেবেলা, এসব নিয়ে অনেক রাইটারের অনেক লেখাই রয়েছে। মাঝে মাঝে সবই যেনো একইধারার মনে হয়, প্রতিটা মানুষের কাছেই আসলে তার মা, বাবা, ছেলেবেলা এসব মুল্যবান কিছু। সেই মুল্যবান বিষয়বস্তুকে পুজিঁ করে, যখন রাইটারদের ছেলেমানুষি প্রকাশ পায়, তখন পুরো লেখাটা পড়ার আর কৌতুহল থাকে না। অথচ ওঙ্কারে আহাম্মেদ ছফা, বংশপুঞ্জির হরফে লিপিবদ্ধ তার পিতার নির্বুদ্ধিতার কথা, বোনের হারমোনিয়ামের বোবা সুর, মানুষের আঘাতে সদ্য ভেঙ্গে গুড়ো হয়ে যাওয়া অর্ধাঙ্গীনির সাজানো সংসারের স্বপ্ন, সময়ের রক্তিম কথোপকথনে জেগে ওঠা চেতনা, অদৃশ্য শেকলে বন্দি নিজের সত্তা, সবই যেনো ছবির মতো ফুটিয়ে তুলেছেন সিদ্ধহস্তে।
নিজের অভিজ্ঞতা
যাইহোক, আমি একটা সময় অনেক লুসিড ড্রিমসের প্রেকটিস করেছি, শেষমেষ হাল ছেড়ে দিয়েছি কারন, ওটা প্রশান্ত মনের উপর নির্ভর করে। আজ এই ভোরবেলায় লুসিড ড্রিমস পসিবল হলে আমি আহাম্মেদ ছফা কে জিঙ্গেস করবো স্যার, ওঙ্কার মানে কি? আমি ওঙ্কার শব্দটার কোন মানে দার করাতে পারি না কেনো? স্যার, লুসিড ড্রিমস কি পসিবল?
মসজিদে ফজরের আজান হচ্ছে, ‘লা ইলাহা’ শব্দের আরষ্ঠে জড়িয়ে আসছে চোখের পাতা। আরে ঐ তো আহাম্মেদ ছফা স্যার, এই যে স্যার হ্যালো, আমি আপনার বিগ ফ্যান স্যার, দয়া করে দুইটা একটা লাইন কিছু বলে যান। স্যার আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন, নিজের অভিজ্ঞতাগুলাকে যত্ন করো, হোক সেগুলো খুব ছোট আর নগন্য, হোক তা খুব কষ্টের আর বিচিত্র, বিশ্বাস রেখো ওগুলাই সত্য, সুন্দর আর চিরন্তন।
কী-ওয়াড:
লুসিড ড্রিমস্, ইনিগমা, আহম্মেদ ছফা, ওঙ্কার, বংশপুঞ্জির হরফ,
'লা ইলাহা', অডিওবুক, হৃদয়ানুভূতি, সুখানুভূতি, থিওরিটিক্যাল লেকচার, ব্যাচেলর পয়েন্ট, বিচিত্র বিশ্বাস।
উপজীব্য:
বংশপুঞ্জির হরফে লিপিবদ্ধ নির্বুদ্ধিতা, হারমোনিয়ামে বেজে ওঠা বোবা সুর, দুঃস্বপ্নে ভেঙ্গে যাওয়া তরুনীর সাজানো সংসার, অদৃশ্য শেকলে বন্দি নিজের সত্তা, সময় আর চেতনার রক্তিম কথোপকথন।

Comments
Post a Comment