ট্রাইএঙ্গেল-২০০৯ (মুভি Review)

একটা মন বাঁকানো সামুদ্রিক ওডিসি

 "2009 সালে মুক্তিপ্রাপ্ত, "ট্রাইএঙ্গেল" সিনেমাটি অডিয়েন্সদের জন্য  একটি মনস্তাত্ত্বিক রোলারকোস্টারের মতো যা প্রচলিত গল্প বলার, চ্যালেঞ্জিং সময় কে উপলব্ধি করার এবং বাস্তবতা এবং দুঃস্বপ্নের মধ্যে অবস্থানকে অস্পষ্ট করে তুলে এবং একজনের পছন্দসমূহ কিভাবে তাকে ভুতুড়ে পরিণতিতে নিয়ে যায় সেটা দেখানো হয়েছে।


মেলিসা জর্জ:



প্রতিভাবান মেলিসা জর্জ অভিনীত কেন্দ্রীয় চরিত্র জেস একটি বোটিং ভ্রমণে বন্ধুদের সাথে যোগ দেয় যা ছিল সিনেমাটির স্বাভাবিক শুরু। যাই হোক, একটা ঝড়ের পরে তারা যখন একটি রহস্যময় এবং পূর্বাভাসমূলক পরিত্যক্ত সমুদ্র লাইনার জাহাজের  মুখোমুখি হয় এবং সিনেমাটিও অজানা জলে যাত্রা করে। ধীরে ধীরে গল্পটি স্বাভাবিক সামুদ্রিক ওডিসির মতো মনে হলেও সিনেমাটা গড়াতে গড়াতে প্রচলিত গল্পের সীমানা অতিক্রম করে বাস্তবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা শুরু করে।



'দেজা-ভূ'






"ট্রাইএঙ্গেল"  সিনেমাটি একটি জটিল দুর্বোদ্ধ্যতায় তার গল্পটি প্রকাশ করে। চরিত্ররা যখন নিজেদেরকে কখনও শেষ না হওয়া লুপে আটকা পড়ে, তখন গল্পের মধ্য দিয়ে “দেজা ভু”(déjà vu) থিওরীর প্রতিধ্বনি হতে থাকে। পরিচালক স্মিথ নিপুণভাবে টাইমলাইনকে একত্রে বুনেছেন, একটি গোলকধাঁধা তৈরি করেছেন যেখানে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ একত্রিত হয়, এবং দর্শকদের চিরস্থায়ী দিশেহারা অবস্থায় ফেলে দেয়, যেনো এখানেই বোধয় সিনেমাটা শেষ, কিন্তু শেষ অবধি পৌছাতে পুরো “দেজা-ভূ” বিষয়টা আরো ক্লিয়ার হয়।




সিনেমাটির মুল রহস্য সাইকেল এ্যাক্টিভিটি :



মুলত একধরনের পুনরাবৃত্তিমুলক মোটিফ হয়ে ওঠে, যা অসীম একটা লুপের প্রতিনিধিত্ব করে এবং অর্ডিয়েন্সদের কিছুক্ষন বাকরুদ্ধ করে রাখে। জেসির প্রতিটি পুনরাবৃত্তিমুলক এক্টিভিটিই মুলত তার মানসিক পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, তার দুর্বলতা, অপরাধবোধ সবকিছুই তার কর্মের পরিণতি প্রকাশ করে। সিনেমাটি স্বাধীন ইচ্ছার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং নিয়তির সাথে একটা ভয়ঙ্কর মাতম উপস্থাপন করে।



পরাবাস্তুব সিনেমাটোগ্রাফি:



ট্রাইএঙ্গেল সিনেমায় মেলিসা জর্জ, জেস হিসাবে অসামান্য পার্ফমেন্সের জন্য তাকে tour de force হিসেবে চিহৃত করা হয়। সিনেমায় ভড়কে যাওয়া মানসিক তীব্রতার সাথে ভেঙ্গে পড়া সময়ের  টাইমলাইনগুলিকে নেভিগেট করে সে ৷ তার অভিনয়ে, একটি দুঃস্বপ্নের চক্রে ধরা, একটি চরিত্রের হতাশা এবং বিভ্রান্তিকর ব্যাপারগুলিকে সুচারুভাবে ক্যাপচার করেন তিনি, যা আসলে পরাবাস্তব বর্ণনায় একটি মানবিক উপাদান সংযুক্ত করেছে।


প্যারাডক্স;


সিনেমায় চরিত্রগুলি যখন তাদের পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে চলছে, এবং "প্যারাডক্সগুলি উপস্থাপিত হচ্ছে যা দর্শকদের বাস্তবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বারবার। যেখানে, অপরাধবোধ, মুক্তি, এবং মানুষের অস্তিত্বের চক্রাকার প্রাকৃতিক বিষয়সমূহ সামনে আসছে, ট্রাইএ্যাঙ্গেল সিনেমাটি যে অভিজ্ঞতা তৈরি তা আমাদের চিন্তাকে-প্ররোচিত করার মতোই অস্থির।



সিনেমাটিক ফাঁকিবাজি;


ট্রাইএঙ্গেল হচ্ছে একধরনের সিনেমাটিক ফাঁকিবাজি যা অর্ডিয়েন্সদের মানসিক কমপ্লেক্সিসিটি এবং জটিল অনুযুক্তিগুলো সরল সমিকরণে নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ করে। ক্রিস্টোফার স্মিথের ডাইরেকশনের সাথে মেলিসা জর্জের কমপেলইং পার্ফমেন্স সিনেমাটিকে ঐতিহ্যগত থ্রিলার কনভেনশন্সগুলোকে ছাড়িয়ে নতুন একটি মাত্রায় নিয়ে যায়।


ভাগ্য সমুদ্রে টালমাতাল ঝড়ে ভেসে থাকা চরিত্রগুলো আসলে ট্রাইএঙ্গেল সিনেমার জেসের, হিউম্যান সাইকোর মিসম্যারিজিং এক্সপ্লোরেশন যা আসলে জটিলতার গভীরে খুঁজতে থাকা কারো অমোচনীয় পদচিহ্ন। পূর্বাচলের ট্রেনে পুরতে থাকা লাশ, জেসের মতো আমাদের হতবুদ্ধি পরিস্থিতিতে নিয়ে যায়, একটা সময় দৃশ্যটা সহজতর হয়ে উঠে। 


Directorial Brilliance


Triangle stands as a cinematic marvel that transcends traditional boundaries, subverting expectations and creating an unforgettable journey into the depths of the human psyche. Christopher Smith's directorial brilliance crafts an intricate narrative labyrinth, challenging viewers to embrace ambiguity and question the very nature of reality.




Comments