পৃথিবীর ক্যান্সার

এ সোসাল টাবু

জাম্বু কাশ্মীর বিবাদ নিয়ে এ যাবৎ ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হয়েছে তিনবার, এছাড়া খন্ডযুদ্ধ চলছেই আজ ৭৬ বছর ধরে, মারা গেছে অসংখ্য মানুষ, ওখানেও মানুষ জেগে জেগে ঘুমায়। আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে আছে আরো অনেক দেশ। মিয়ানমার সীমান্তে রোহিঙ্গা ইস্যুর কোন সমাধান হয় না। বাংলাদেশের পার্বত্য ইস্যুও দুদিন আগে নড়েচড়ে উঠেছিলো। জাম্বু কাশ্মীর ইস্যু মুলত স্বায়ত্তশাসনের দাবীতেই জ্বলে উঠে, কয়েকদিন জ্বলেপুড়ে আংড়া হয়ে নীভে যায়। আবার কেউ এসে সেই কয়লায় বাতাস দিয়ে নির্মান করে কার্গিল সিনেমা, বাজানো হয় দেশভক্তির মাদল। ৭৬ বছর ধরে চলতে থাকা একটা ইস্যুর সমাধান কেউ করতে চায় না, সবাই যে যার মত বাতাস দিয়ে কয়লায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়। মাঝখান থেকে ছোটভাই হিমেল কয়, 'ভাই তুই যাচ্ছারে, মানচিত্র থুই তুই পঞ্চগড়টা আলাদা করি ফালা, লই যা ভাই, তোরে কেডা নিষেধ কইচ্চে, লই যা'। আমি তার কথা শুনে পেটভরে হাসি। সাধু সীমান্তু কোন্দল বোঝে না, তারে কেমনে বোঝাই, শক্তি শম্পদের অনিরাপদ ও ভারসাম্যহীন ব্যাবহারে কারো সীমান্তে জ্বলে উঠছে হাজার পাওয়ারের বাত্তি, তো কারো সীমান্তে জলে ভাসা জনজীবনে মন্তু আর কপিলারা ডিঙ্গি নায়ে রাত্রি রচনা করে চলেছে হাজার বছর ধরে।

পাবলিক ইমোশন

ভাষা, সাহিত্য, দেশভক্তি, ধর্ম, বই, গান, সিনেমা, খেলাধুলা, প্রকৃতিপ্রেম, বিশ্বগ্রাম, সরকার, সংবিধান, শিক্ষা, চেতনা, পাপ-পূন্য, সবকিছুর সাথে আসলে পাবলিক ইমোশন জড়িয়ে থাকে আর সেই পাবলিক ইমোশনের হাত ধরে উঠের পিঠে ট্যাবুর মত চলতে থাকে ব্যাবসা, বাণিজ্য, মার্কেটিং বাগাড়া।  ইরানের সর্বোচ্চ্য মাওলানা খামেনি ফতোয়া দিলো ইজরাইল হচ্ছে পৃথিবীর ক্যান্সার তারপর কানাকানি সেই কানাকানি পাবলিক ইমোশনকে আকড়ে ধরে বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তক হয়ে বিসিএসের ইক্সাম-হলে। তাই নাকি ভাই! বিসিএসরা এ নিয়ে আলোচনা করে নাকি! তো ফের রেহ্যনে দো, নেহি চাহিয়ে বিসিএস কি থাপ্পা, থাপ্পা কিধার হোতেহ্যা ভাই, হামে তো কাহিভি নাজার নেহি আয়া। 

NPL

প্রাকৃতিক ভাষা কিভাবে প্রসেসিং হচ্ছে? ভাই এ নিয়ে তো তোমাদের কাছে কোন তথ্য নেই, তথ্য নেই কেনো? তোমরা পৃথিবীর ক্যান্সার নিয়ে আলোচনা করছ, দিনরাত যে যার মত। সেদিন ভাষা সৈনিকেরা মাটি খুড়ে ভাষার যে রত্ন খুঁজে ফিরছিলো, তাদের কে তো তোমারা 'চুন চুন কে' মারলে। বাংলা টেক্টে ডাটা খুঁজলে এখনো ইংরেজীর দিকে আঙ্গুল চলে যায়, গুগোল ট্র্যান্সলেটও আজকাল ভালো রেজাল্ট দিচ্ছে। তারপর 'জয়বাংলা' শব্দটা নিয়ে টানাটানি। আজ জয়বাংলা শব্দটা আর বাঙ্গালীদের শরিরে উন্মাদনা জাগাতে পারে না, কেনো পারে না? জয়বাংলার ব্যাবচ্ছেদ করা হয়েছে, হারিয়ে গেছে তার শক্তি আর মাতৃভক্তি। 

GPT

চ্যাটজিপিটি হচ্ছে এ সময়ের আলোড়ন? কুছভি পুছো, ২৫০০ ওয়ার্ড পযর্ন্ত একটা সমসাময়িক ও এ্যানালাইটিকাল রেজাল্ট দিচ্ছে, যেটাকে যে কোনভাবেই মাপামাপি করো না কেনো, রেজাল্ট শতভাগ সচ্ছ। প্রথম কিছুদিন যখন চ্যাটজিপিটি তিনটা কোয়েশ্চিন এ্যানসার করছিলো, ব্যাপারটা অনেকের কাছে ছিল আলাদ্দিনের দৈত্যের মত "সারাদিন তিন কোয়েশ্চিন" আমার মনে আছে "দ্যাট ওয়াস লাস্ট রামাদান। আর আজ প্রতিদিন মিলিয়ন মিলিয়ন ডাটা জেনারেট করা হচ্ছে চ্যাটজিপিটি দিয়ে। মুলত জিপিটি হচ্ছে এ সময়ের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী টেক্সট জেনারেটিভ এআই। কাছের এক ছোটভাই জিপিটি দিয়ে পাইথন জেনারেট করছে, আরে ভায়া তাহলে ঘন্টার পর ঘন্টা কী-বোর্ডে খুটুরপুটুর না করে সবাই জিপিটি দিয়েই কাজটা করতে পারে। ছোটভাই উল্টো আমারে জিঙ্গেস করল, ভাই জিপিটি কি?

লে, কি আবার, জিপিটি হচ্ছে আধুনিক ইন্টারনেটের মস্তিষ্ক, এটা একটা নিদ্রিষ্ট এ্যালগরিদম অনুসরন করে, ইন্টারনেটের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা তথ্যকে স্কেল করে স্যাটিসফাই কোন কিছু লিখতে পারে।তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে জিপিটিকে কোয়েশ্চিন করলে, সে কোয়েশ্চিনটাকেও স্কেল করে নেয়, এ্যালগরিদম টা আমাদের প্রশ্নেই লুকানো থাকে, তারমানে প্রশ্নটা যেমন উত্তরটাও তেমন।  জিপিটি কয়েকদিন আগেও ২০১৯ এর পরের কোন তথ্য, কোন ইস্যুকে এ্যানলাইজ করত না, তবে ইজরাইল ইস্যু শুরু হওয়ার পর থেকে এটি রাজনৈতিক বিষয়ও এ্যানালাইজ করা শুরু করেছে। প্রতিটি দেশেই তার নিজস্ব কিছু পলিটিকাল ব্যাপার থাকে। ইজরাইলও তার বাইরে না, সেখানেও ধর্মীয়, সাম্রদায়িক, সীমান্তু কোন্দল, অর্থনৈতিক ইস্যু, সংখ্যালঘু সমস্যা সবকিছুই অনান্য দেশের মতই, সিচুয়েশনের সাথে এ্যাকটিভ। বাংলাদেশে বসে শুধুমাত্র অল্প কিছু তথ্যের লিংকের ভিত্তিতে ইজরাইলের রাজনৈতিক সিচুয়েশন ট্রেসিং করতে চাওয়া আসলে অনেক সাহসের ব্যাপার। 

১৯৯৯ সালে ইজরাইলের ন্যাশনাল ক্যানসার ইন্সটিটিউট এর জার্নালে বলা হয়- ইজরাইলে  ২৫০০ বছর ধরে চলতে থাকা মানুষদের মধ্যে বিভিন্ন জেনেটিক রোগ দেখা দিচ্ছে। ২০০৩ সালে হার্টেজ ডট কমের ওয়েব লিংকের আর্টিকেলে বলা হল, হেলথ মিনিস্ট্রির রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৯৮-২০০০ সালে ইজরাইলের স্কীন ক্যান্সারের রেটিং সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ্য।২০০৬ সালে 'দ্যা গার্ডিয়ান' পত্রিকায় প্রকাশ করা হল, ইজরাইলের পলিসিই আসলে সে দেশের ইহুদী বিদ্বেষকে ইন্ধন জুগিয়ে আসছে। ২০০৯ সালে অক্সফোর্ড একাডেমিক লিংকে  ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউট জার্নাল প্রকাশ করল, ইজরাইলি জিউইস রা সেই ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরথেকেই এই ক্যানসার ঘটনার শিকার হয়ে আসছে।২০১২ সালে 'লস এঞ্জেলস টাইমের এক পোলিং রিপোর্টে ৫২ শতাংশ জিউইস ইজরাইলি এ বিষয়ে সম্মত হয়েছেন যে, ইজরাইলে অবৈধ বসবাসকারী আফ্রিকানরাই মুলত সেই দেশটির ক্যান্সার বয়ে চলছে। এতো তথ্য বিশ্লেষন করলে আমরা পাই, ক্যান্সার হচ্ছে ইজরাইলের অভ্যন্তরে চলতে থাকা একটা রাষ্ট্রকলের বিষবাষ্প। এরপর ২০১৮ সালে ইরানি লিডার খামেনি সরাসরি পুরো ব্যাপারটা আলাদা দিকে টার্ণ করে দিয়ে নিয়মিত ভাবে বললেন, ইজরাইল হচ্ছে ধর্মের ক্যানসার। কথাটা হাওয়ায় বেগে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল।

এরপর যা হল তা কানাকানি করতে করতে বিসিএস টপিকে পৌছে যাওয়ার মতো। বাংলাদেশের অনেক নিইজ পোর্টাল ব্যাপারটা আরো পাকাপোক্ত করে স্টুডেন্টদের কানে পৌছে দিল। আজকাল বিসিএসরা মুখস্ত করে 'পৃথিবীর ক্যানসার- ইজরাইল'। ভাই ঠিক একইভাবে চারবার শীর্ষতম হওয়ার পর  তোমরা যদি 'বিশ্বের দুর্নীতি - বাংলাদেশ' মুখস্ক করতে আজ এই দেশে দুর্নীতি ঠাই পেত না।

খামেনির সেই উক্তির পর মানুষ আর ইজরাইলের ক্যানসার রোগিদের খোঁজ নেয়নি। ২৯শে মে ২০২৩ এ জেরুজালেম পোস্টের এক আর্টিকেলে জানানো হয় ক্যানসার নিরাময়ে ইজরাইল ৯০শতাংশ সাফল্য পেয়েছে, দেহ থেকে তো ক্যানসারের ভাইরাস থামানো গেল, কিন্তু মানুষের মনে যে ক্যানসারের ভাইরাস বয়ে চলেছে তার ফল হচ্ছে যুদ্ধ। এটা কিভাবে থামাবে?

সক্রেটিস দাদু কি যেন বলেছেন, নিজের মধ্যে থাকা ইগনোরেন্সের এ্যাওয়ারনেসই হচ্ছে আমাদের উইশডোমের শুরু।

gpt4_ I'm not aware of Israel being referred to as the "cancers of the world." Such a statement is not accurate and would be considered offensive and inappropriate. Israel, like any other country, is a complex nation with a diverse population and should not be characterized in such a negative way.





Comments