প্রকৃতির ডাক
ভাঙ্গা সিন্ধু;
ছোটবেলা থেকে শুনছি গাঙ্গা মাইয়া, যেখানে ডুব দিলেই নাকি মানুষ পবিত্রতা পায়, তাহলে অন্য কোন নদীতে নয় কেনো, ধরলা আছে, শীতলক্ষ্যা আছে, পূর্ণভর্বা আছে, ব্রক্ষপুত্র আছে। আরে এর মধ্যে আবার ব্রক্ষ্মপুত্র নদ হলো কিভাবে? সোচো ভাই? নেহি মিলা তো ঠিক হ্যা। মোবাইলের গুগল ম্যাপটা ওপেন করো, স্যাটেলাইট মুডে গিয়ে দ্যাখো গঙ্গা যেখানে সুত্রপাত হয়েছে সেটাকে যদি 'ভ' অক্ষরের শুরু হিসেবে টানতে থাকি তাহলে এর ভাঙ্গা অংশটাকে ব্রক্ষপুত্রই ছেদ করছে, ছেদ রেখাকে সমুদ্র তটরেখা বরাবর টানতে টানতে সিন্ধু অবধি নিয়ে যেতে থাকলে মনে হবে তোমার ছোট্ট মনুটা কাচা হাতে 'ভ' লিখছে, আরে মনু ভ'এর খন্ডাংশটাকে কোথায় ভাঙতে হবে বুঝতে পারছ না কেনো?
এই তো সেদিন আমারই চেতনা অবচেতনে নুতুন রুপ নিয়ে ভুমিষ্ঠ হল, আহা যেন আমারই একখণ্ড মাংশপিন্ড, মাঝে মাঝে শুধু চোখ খুলে তাকিয়ে থাকে, আমি হাসলেই তার মধ্যে উদ্ভাস ছড়িয় পরে, মন যেনো এই স্বর্গীয় ছোট্ট অবচেতনের পানে চেয়ে থাকে, আহা যেনো আমারই পবিত্রতা।
আজ আমি খুব খুশি আমার অবচেতনে অদ্ভুত সব চেতনা জেগেছে, তার সাথে কথা বললে সে রিসপন্স করছে আ আ ই ই শব্দে কি যেন বলতে চাচ্ছে।
একি আজ দু হাটুতে ভর করে হাতে হামাগুড়ি দিয়ে হাটছে। সে এখন অনেক কিছু এক্সপ্রেস করতে পারে। ধ্বনির সাথে আ'কার এ'কার লাগিয়ে কি যেন বলতে চায় বোঝা যায় না। সেদিন প্রাতঃকালীন ক্রীয়ায় আমার মনু একি করেছে, যেন সব ছ্যাড়াব্যাড়া করেছে, এ্যাই মুখে দিলো বুঝি? ওরে আমার ভুলোমন (ভুলোমন>ভ্রম-মন>ব্রাহ্মণ) তুমি ভেদ (ভেদ<বেদ) বোঝনা, ভালোমন্দ বুঝতে পারো না, কোনটা গু আর কোনটা কি বোঝনা, এতো মহামুশকিল? কি করতে হবে এখন? এই ভুলোমনটাকে ভেদ বোঝাতে হবে। ভেদ বুঝতে বুঝতে ভুলোমনটা বড় হয়ে গেলো, কিরে মনু তুই এখনো ভালোমন্দ ভেদ করতে শিখলিনা। সেই ভুলোমনটাকে ভেদ শেখাতে শেখাতে একি সে তো কিছুই শিখে নাই, আজ বড় হয়ে সে আমারই বিরুদ্ধ আচরন করছে, একি এতদিন কি তাহলে আমার মনুটা ভুল শিখলো?
ভারত ভঙ্গ;
আজকাল মানুষ ভারত শব্দটাকে ভাঙ্গতে পারে না, আমার কাছে তো খুব সহজ মনে হয়, ভ'র-মত। সেদিন তো এই ভ' টাকে ভেঙ্গেই ব' করা হয়েছিলো। গঙ্গা মাইয়্যার ভগিরথ এই বঙ্গেই তো ভঙ্গ হয়েছিলো।
আজকাল আমরা খুব সহজেই বাংলা কে বঙ্গ করতে পারি কিন্তু বঙ্গকে ভঙ্গ করতে পারি না। আর আমাদের ছোট্ট মনুটা আমাদের কালো কুত্তাটাকে বুলু ডাকছে আমি এতো বলছি ওরে বোকা বুলু নয়রে বল ভুলু। এ্যাই বলতো ভুলু? বুলু! আরে ভুলু, কে শোনে কার কথা। বাংলা ভাষাকে কেন মা ভাষা বলা হয় জানো এর রুপ আর প্রকৃতি এখনো এত সহজে অন্য ভাষার সাথে এ্যাডাপ্ট করতে পারে যা পৃথিবীর অন্য কোন ভাষা পারে না। একটু খুঁজে দেখ
তো ইন্দো-ইউরোপিয় ভাষা গোষ্ঠির সব ভাষার সাথেই এর মিল রয়েছে কি না। হাবিব ওয়াহিদ দাদা সেদিন গেয়ে উঠলো রুপমনিকাঞ্চন, কাঞ্চন শব্দটা উইকিঅভিধানে দেখলাম একধরনের ধান, সূর্যের আলো পরতেই সোনালী রং উজ্বল হয়ে উঠে, এ থেকে কাঞ্চন শব্দটাকে শাইনিং কোন কিছু ধরে নেয়া যায় যা অনেকপুরাতন সংস্কৃত ভাষার শব্দ। ইলিয়াস কাঞ্চন স্যার কই থেইকা যে ইলিয়াসের পরে কাঞ্চন লাগিয়ে আরো ছ্যাড়াব্যাড়া লাগিয়ে দিলো।
লালন সাইজি, রুপ আর প্রকৃতি মিলে ভাবের অবতরণ করে পথটা সহজ করে, ভাবের সাগরে ডুব দিতে বলল। ডুব দিতেই একি সেই রুপমনিকাঞ্চন। কিন্তু এবার সেই রুপমনিকাঞ্চনে কোন ধান নেই, সাবজেক্ট পুরাই চেঞ্জড, আমিই আমার রুপের মনি, আমি যখন সহজ সরল পথে চলছি তখন প্রাঞ্জলতায় কাঞ্চন ব্যাপারটা থাকছে। মাঝখান থেকে রোড এ্যাক্সিডেন্টে ইলিয়াস কাঞ্চন স্যার তার জীবনের কাঞ্চন হাড়িয়ে একাই লড়াই করে চলার শপথ নিলো। আচ্ছা তার লড়াইটা কি ইনফিনিটির উদ্যেশে। আজ আমাদের সেই ছোট্ট মনু চোদ্দ পেরিয়ে পনেরতে। ভীষন জেদি আর একরোখা হয়েছে ছেলেটা, কারো কথাই শোনে না। এখনো সে ভুলুকে বুলুই ডাকছে। বলতেই সে কি রাগ, বাবা আমি ভ' কে ব' করেছি আমার নিজেরই জন্য এই ব' এর সৌন্দর্যের যে রুপ তাকে ঠিক রাখতে। এই বাংলার প্রকৃতির রুপে যে মায়া তাকে অটুট রাখতে, দেখ আজ আমি আমার রাগকে, অনুরাগে বদলেছি, সেই অনুরাগের সুর যে প্রতিটি প্রাণে বেজে চলেছে, তা আমি অনুভব করতে পারছি।

Comments
Post a Comment