শব্দের শক্তি
শব্দের জীবনচক্র;
মানুষ কেনো একলা? মা আছে বাবা আছে, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, বন্ধু বান্ধব সবই আছে তারপরও আমরা একলা, সারাদিন তাদের সাথে হাসতেছি খেলতেছি, কথা বলছি, একজন আরেকজনকে তার দু:খ শেয়ার করছি তারপরও আমরা একলা? কিভাবে কিভাবে যেন দুঃখরা আবার কান্ধে চলে আসছে? আমাদের ক্ষুধা আর তৃষ্ণা আমাদের কে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় সবদিকে নিয়ে যাচ্ছে, একটা সময় অন্যায় টা ন্যায়টাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে এই জীবনচক্রের কমপ্লেক্সিসিটির মধ্যে মানুষ নিজেকে একা মনে করে।
মানুষের এই একাকিত্বটাকে আমরা আমাদের দূর্বলতা ভেবে ভীরের মধ্যে হাড়িয়ে যাই, নিজেকে সবসময় হাশিখুশি আর কর্মব্যাস্ত রাখার চেষ্ঠা করি যেন কোন স্রোতের মধ্যে গা ভাসিয়ে দেয়ার মত। সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে মহা আনন্দে ভাসতে ভাসতে যখনই একাকিত্ববোধ করি তখনই বিষণ্ণতা, বিষাদগ্রস্ততা আর ভয় আমাদের গলাচেপে ধরে, আমরা চলে যাই কোন অচেনা ভুবনে যেন একটা চক্র। এধরনের পরিস্থিতি থেকে নিজেকে বের করে আনার জন্য তখন মানুষ নিজেকে খোজা শুরু করে।
তুমি হয়তো ভাবছো, কি বলতেছ এইসব,কেন বলতেছ আমি কি জানতে চেয়েছি? ভাই তোমার এই জানতে না চাওয়ার কারনে তোমারই কোন ভাই চার দেয়ালে বন্দী, জীবনের ভয়ে ভীত, এই পৃথিবীর সবকিছুই তার কাছে বিষাদময় হয়ে ধরা দিচ্ছে । ভাই আমি তাকে অনুভব করতে পারি, তার ভয়, তার দুঃশ্চিন্তা, এই পৃথিবীর অভিশাপ, পৃথিবীর সাজানো কম্পিটিশন, আমাদের ইগনোর, সাফল্য উদযাপনের পদ্ধতি সবই যেন তার জন্য ভয়ংকর একটা পৃথিবী রচনা করে চলছে, যেখানে কোন খুদায়া নেই। আমরা অজান্তেই নিজের 'খুদআ' কে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে অন্যের খুদায়া কে ধ্বংস করছি।
দারিদ্র্যতা সব দরিদ্রকে নজরুল বানায় না। চোর, চিটার, বাটপার, ছ্যাচড়া, নৃশংস, অনৈতিকতা, অমানবিক অনেক কিছু দারিদ্রতাই নিয়ে আসে। অপরদিকে আমরা যখন মনের পরিবর্তে, ধনের পূজা করছি জেগে উঠছে লোভ, লালসা, অনিয়ন্ত্রিত আকাংখা, ক্ষমতার অপব্যাবহার, জ্ঞানের অন্ধত্ব, মানুষের কপটতা আর যা কিছু।
আমরা আমাদের চেতনাকে দরিদ্র করে রেখেছি আর চাচ্ছি সেখান থেকে নজরুলেরা উঠে আসুক আর আমাদের মনকে ধনের কালো চশমা পরিয়ে তাকে সুখ চেনাচ্ছি, বলছি এটা সুখ, এটা বা,,, এটা ছাল,,,যতসব ভন্ডামী। শোন তোমার মনটা সুখ চেনে, তাকে সুখ চেনাতে যেও না, তুমি যখন নিজেকে সুখী বোধ করেবে তোমার মনই তোমাকে সুখ চিনিয়ে দেবে। যে সুখ আমরা খুজে ফিরছি তুমি কি দেখনা সেই সুখ ক্ষণস্থায়ী, যেন আসছে আবার চলে যাচ্ছে, তুমি কি জানো না সুখ পরিবর্তনশীল। এজন্যই হয়তো কোন এক চিরদুঃখী জ্ঞানী বাঙ্গালী দুঃখ দিয়েই এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ইউনিভার্সেল সেটের কোড লিখা শুরু করেছিলো। এটা কোন বাঙ্গালীই জানে না অথচ এই পৃথিবী বাংলা ভাষাকে সমগ্র পৃথিবীর মায়ের ভাষা বলে চিনলো।
কী-ওয়ার্ড
জীবনচক্র, চক্র, পৃথিবীর অভিশাপ, নজরুল, জ্ঞানের অন্ধত্ব, বাঙ্গালী

Comments
Post a Comment