মশাল
সকালে ফেসবুকে একজনের পোষ্ট দেখলাম, নদীভাঙ্গনে যাদের পুরো স্থাপত্য বিলিন হওয়ার উপক্রম হয়, তারা কয়েকটা ইট বাঁচাতে নদীর সাথে সন্ধি বা যুদ্ধ করতে চায় না। কিন্তু সকালবেলা ক্ষুধার্থ পেটে একজন মানুষ যখন অন্নের সন্ধানে বের হয়, তার চিরচেনা ছোট্ট শহরতলীর রাজপথে যখন, খালা-আপারা ভাঙ্গা রেকর্ডের মতো উন্নয়নের বুলির ডামাডোল বাজায়, অশোকের সম্রাটেরা পা চেটে সিংহাসন জেকে বসে, আমাদের পেটে ক্ষুধা মোচড় দিয়ে উঠে। প্রচন্ড ঘৃণায় চিৎকার করে উঠে এই ক্ষুদ্রপ্রান- বন্ধ করেন ভাই এই ডামাডোল, পিওর অথেনটিক কথাবার্তা বলেন মিয়া, বহুত হইছে এই ঢাক পেটানো! আমি তোমাদের এই সাজানো মিথ্যাকথাকে ঘৃণা করি, তোমাদের কপটতা, ছল-চাতুরী এইসব আমি ঘৃণা করি। তোমাদের থেকে আজকাল রিকশাওয়ালারাও ভালো কথা বলে, অবাক লাগে! তারাও আসলে গনতন্ত্রের সংজ্ঞা বোঝে! বিশ্বাস করো, তারা ঐ ক্ষুধার্থ মোচড় দেয়া পেটে হাত রেখে আমাদের একটু সাহস দেয়, আমাদের ভালো থাকতে শেখায়। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ঐ সর্ট ভিডিওটি এরই মধ্যে হয়তো তিন মিলিয়ন মানুষ দেখে ফেলেছে, কথাগুলো সত্য, প্রতিটি কথাই হৃদয়ে আচর কাটার মতো, কিন্তু উত্তর আমরা জানি না? কেউ উত্তর দেয়ার সাহস পায় না, সবাই আসলে সত্যকে এড়িয়ে চলে! জীবনটাকে তোমরা নাট্যমঞ্চ ভাবছো, খালা-আপারা, আবাল-বোদ্ধারা, যখন বন্ধুদের হাত ধরে সেই নাট্যমঞ্চে উঠে, আই এ্যাম ইন, ইন্টারনেটে দুর্গন্ধ ছড়ায়, বন্ধুর কল্যানে সেই মিথ্যায়, সেই অপচর্চায় অংসগ্রহন করতে এখন বিবেকে বাধে। ঐ রিকশাওয়ালা ভাই কি তোমাদের বলে নি, গনতন্ত্র চর্চা করার ব্যাপার, দেশটাকে গনতান্ত্রিক দেশ বানিয়েছো, অথচ কেউ গনতন্ত্র চর্চা করছো না, এইটা কি কিছু হইলো?
বেচারা কাইকর ক্ষুধায় মোচড় দেয়া ঐ খালি পেটেই ঘুমিয়ে গিয়েছিলো, ঘুম ভাংতেই শোনে মাথাপিছু ঋণ ছয় লাখ টাকা! হতভম্ব কাইকরকে জিঙ্গেস করা হলো তুমি আওয়ামীলীগ না বিএনপি? আকাশ থেকে পড়লো সে, তাকিয়ে দেখে একটা নেড়ি কুত্তী ঠোঁট ফাটা আবহাওয়ায় দুলছে, তাকে নাকি শীতবস্ত্র দিতে হবে, মাঝখান থেকে হিমেল সাধু চিল্লায়া উঠছে প্রকৃতি রক্ষা করতে হবে। কাইকর বোকা হয়ে গেছে! সে যখন চালাক ছিলো তখন সকলের কথা শুনতো, সকলের কথা ভাবতো। আজকাল বোকা হয়ে, কাইকর মাঝে মাঝেই জিজ্ঞেস করে? আচ্ছা গনতন্ত্র কি?
এদিকে সোনার বাংলা সার্কাসের রিপন দা ঐতিহাসিক হয়েছেন! ব্যাঞ্জোরা আপন মনে বসে নিজেরই মগজ খাচ্ছে, কোন স্কুল থেকে কি যে শিখেছেন, জানি না কেন তাদের প্রতিদিন মৃত্যু উৎপাদন করতে হয়, তারা বলছে দার্শনিকদের পেট থাকতে নাই, রিপন দা, দার্শনিকদের পেট না থাকলে তারা ক্ষুধার্থ পেটের মোচড় দেওয়ার ব্যাথাটা কিভাবে বুঝবে? থাক না, মেরুদন্ডে চেপ্টে থাকা একটা শুকনো পেট, দার্শনিকেরাও তো প্রকৃতি, ক্ষুধার খাদ্য তাদেরও মৌলিক চাহিদা। অন্যদিকে মনা ভাই, কেমনে কেমনে দুই পা দুইদিকে ধরে, টোকা দিয়ে টিডিং টিডিং, কেমনে জানি মিউজিক তুলে, অটোটিউনিং করে একটু রুম্বা ফ্লেমিং- অথবা মারকোস কায়সার লাগিয়ে দিলেই, হয়তো মারজুক দার “শান্তি কোথাও নাই” অটোটিউন করা হয়ে যেতো। আচ্ছা, শান্তি খুঁজতে গিয়ে কেউ কি এখনো, শান্তির হাটে হাড়িয়ে যায়। তারা কি কেউ মারজুক স্যারের গানটার মিউজিক দিয়েছে? এখনো কি মানুষ শান্তি খুজতে গিয়ে চায়ের টং দোকানে নিজেকে হত্যা করে, চায়ের কাপে নিরবতারা জমে যায়।
আজকাল চলমান কোনকিছু কিভাবে ঐতিহাসিক হয়ে যায় বুঝিনা, তাৎপর্য ছাড়াই ঐতিহাসিক, ঐতিহ্য ছাড়াই ঐতিহাসিক। তাৎপর্যহীন, ঐতিহ্যহীন কোনকিছু ঐতিহাসিক হলে, তাতে কার বা_ডা ছেড়া গেলো আমি জানি না। তোমরা পরে থাকো তোমাদের ঐতিহাসিক মিথ্যার পাহাড়ে, আমার সোনালী ধানক্ষেত প্রয়োজন, আমার নবান্নের পিঠাপুলির উৎসব প্রয়োজন! ধানক্ষেতে কোনো ফড়িংয়ের লেজে সুতো বেধে উধলা গায়ে, তার পিছনে দৌড়ানো প্রয়োজন।
জনমত হচ্ছে গনতন্ত্রের মুলধন, জনমতের কান্ধে চরে অন্ধ গনতন্ত্র কখনো স্বৈরাচারের আতুরঘর হয়ে উঠে তো কখনো হয়ে উঠে স্বৈরাচারীতা নির্বাণের তীর। জলন্ত কোন আগুনের শিখা যদি কখনো না নিভে, জ্বলতেই থাকে, তাহলে আমরা তাকে অনির্বাণ বলি, তাহলে নির্বাণ হচ্ছে নিভিয়ে দেয়া, নিভিয়ে দাও যত অপকথার আগুন, স্বৈরাচারীর তাবুতে টাঙ্গানো যত যুদ্ধের মশাল, নিভিয়ে দাও, মনের মধ্যে যত আগুন নিভিয়ে দাও! মঙ্গল-দ্বীপ জ্বালো। সেই মঙ্গল দ্বীপের আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করো, উদ্ভাসিতমুখে মুক্তির মশাল জ্বলে ।
নিজেকে গনতন্ত্রের মানসপুত্র-মানসকন্যার আসনে বসিয়েছ, আর চাচ্ছ কেউ তোমাদের সমালোচনা করবে না, কেনো? গনতন্ত্রে সমালোচনা না থাকলে, জনমতের সংমিশ্রন না থাকলে, সেখানে আর গনতন্ত্র জীবিত থাকে না, গনতন্ত্র চলেই মানুষের সমালোচনার ঝড়ে, এই দেশের অলিতে গলিতে, পাড়ায় মহল্লায়, শহরে বন্দরে প্রতিটা চায়ের দোকানে চলে ভুতের রাজক্ত, সব ভুতেরা ঘুরে এখানে ওখানে, আমি থাকতে চাইনা ভুতের রাজ্যে, জীবিতদের মুখে থুথু দিয়ে ভুতের আরাধনা করার কি প্রয়োজন। আর তোমরা ‘শিকল-পূজোর পাষান-বেদি’ বোঝনা।
Free and fair elections in a democratic country are a pivotal component of representative governance. They ensure inclusivity, equal suffrage, transparency, and access to information. Upholding integrity and security, these elections support a peaceful transition of power and often involve independent monitoring for credibility. By reflecting the diverse will of the people, free and fair elections serve as a cornerstone of democracy, fostering trust, equality, and the informed participation of citizens in shaping their government.




Comments
Post a Comment