হাসি

 The symphony of existence.

জানি না কেন? একটা বোডিং স্কুল চোখে ভাসে! আমি সারা বাংলাদেশ তন্নতন্ন করে খুঁজেছি, সেই বোডিং স্কুলটা, কোথাও খুঁজে পাই না! গুগলকে আমি খুব ভালোবাসি, আমার ইন্টারনেট ইউজিং এক্সপেরিয়েন্সের কোন মুহুর্তেই গুগল আমাকে আশাহত করেনি। বোডিং স্কুলটার লোকেশন জিজ্ঞেস করলেই হয়তো সে আমাকে ওখানে পৌছে দিতো, কিন্তু আমি তা চাই না, আমি হিমুদার চোখ বন্ধ করলেই ময়ূরাক্ষী নদীর মত, পৌছে যেতে চাই ঐ বোডিং স্কুলে, যেখানে একটা অসহায় বাবা চোখ মুছতে মুছতে স্কুলের চৌকাঠ পেরিয়ে হাড়িয়ে যায় ভীরের মাঝে, তার ষোড়শী তনয়া বালিশে মুখ লুকিয়ে কাঁদে, একটা সময় ভালোবেসে ফেলে স্কুলের আঙ্গিনার বড় জলপাই গাছটাকে, জলপাইয়ের উদেশ্যে ছোড়া প্রতিটা ঢিলকে, পাশেই অদ্ভুৎ গন্ধের বকুল ফুলের গাছটাকে, ঝড়ে পড়া প্রতিটি ফুলকে, তারপর সেই ফুলে মেশানো আবেগে কয়েকটা মালা গেঁথে ফেলে ও, কার জন্য যে মালা গাঁথে, সে জানে না? আমিও জানি না! চোখ মেলে আমি আর বেশিকিছু ভাবতে পারি না, তালগোল পাকিয়ে যায়। চোখ বন্ধ করে একটু ভাবলেই চলে আসে সেই বোডিং স্কুলের চত্তর, আর আমি যেন সেই ষোড়শী তনয়ার ব্যাবহৃত সবকিছুতে হারিয়ে যাই, তার বালিশের কোণায় রুবিক্স কিউব, ছেড়াফাটা একটা এ্যালবামে কত সময়ের স্বৃতি, বিছানায় চাদরের বর্ণিল রং, বালিশের কভারে অলস সময়ের সুই সুতার নকশা, নিজ হাতে বানানো একটা কাপরের টেডি পুতুল, ভাঙ্গাচোড়া পড়ার টেবিল, চটি, জামা, জুতো, ঢিলেঢালা একটা জিন্স, মনের মাধুরী মেশানো কয়েকটা ডাইরী, আর জানলার চিরচেনা ঐ পর্দাটা, সবকিছুই আমার ভালো লাগে। সবই যেন জীবন্ত

সত্যি বলছি, আমি সেই বোডিং স্কুলটা একবারও দেখিনি, কিন্তু স্কুলটা আমার কল্পনায় স্পষ্ট, হাত বাড়ালেই ছুয়ে দেখা যায় এমন।


ষোড়শীর নিজস্ব ভাষা;


ষোড়শীর একটা নিজস্ব ভাষা আছে, সে ঐ ভাষায় তার চারপাশের পৃথিবীটার সাথে কেমনে জানি কমিউনিকেট করে, ও সবার সাথে কথা বলে, তার টেবিলের কলমদানিটাও তার ভাষা বোঝে, বালিশের তলায় শুকনো বকুল ফুলের মালাটাও অদ্ভুত সংবেদনশীল হয়ে উঠে তার স্পর্শে। আমি শুধু চেয়ে চেয়ে থাকি, তাদের কথাবার্তা শুনি কিন্তু কিছুই বুঝিনা, খুব চেষ্ঠা করি বুঝতে কিন্তু বুঝতে পারি না। আমার ভ্যাবাচ্যাকা মুখ দেখে সেই ষোড়শী ঝলমলিয়ে হেসে উঠে, নির্মল সেই হাসিতে হৃদয়ে খোঁচা লাগলে আমি তাকে থামাই, বলি, তোমার এই নিরব ভাষাটা আমাকে শেখাবে? আমার প্রশ্নে সে আরো দম নিয়ে হেসে ওঠে, আমি পুলকিত মনে তার হাসি দেখি। হাসি থামানোর জন্য আবার জিঙ্গেস করি, বালিশের তলার ঐ শুকনো মালাটা আমাকে দেবে? সে আবার হেসে ওঠে।


ঝড়ে যাওয়া শিমুল;


সেদিন ঐ বোডিং স্কুলের সামনে একটা কৃষ্ণচূড়ার চারা  লাগিয়ে দিয়েছি, এখন একটা শিমুল গাছ খুঁজছি! বোডিং এর যে পাশটায় ঐ শ্যাওলাপরা, জীর্ণ পুরাতন ঘরটায়, সেই তনয়া লিখে চলেছিল তার জীবনকাব্য, যে জানালার জংধরা গ্রিলে হাতের স্পর্শে ছড়িয়ে পড়ত তার অনুভুতি, সেই পাশটায় রোপন করবো শিমুল গাছটা। ঝড়ে -বাতাসে কত অসংখ্য শিমুল যে ঝড়ে পড়ে, কেউ খোঁজ নেয় না। শিমুলের গায়ে গন্ধ থাকে না, তারা কারো মালাতেও স্থান পায় না অথবা তারা হয়ে উঠে না কারো সন্ধা পুজার অর্ঘ, গাছ থেকে খসে খুব দ্রূত মিশে যায় মাটির সাথে, টকটকে লাল শিমুল ফুলেরা চুড়ায় থাকলে কত মানুষের ভালোবাসা পায়, কেউ বলে আগুন রাঙ্গা শিমুল, কেউ বলে রক্তে ফোটা শিমুল আরও কতকিছু। কিন্তু সেই শিমুল যখন ধুলোয় লুটোপুটি খায়, কেউ তুলে নিয়ে বলে না, আহারে কি সুন্দর। 


সমাপ্তি;


সেই যে মেয়েটা সদর দরজা পেরিয়ে বোডিং স্কুলে ঢুকলো আর ফিরে এলো না, আমি সেই কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে ঠায় দাড়িয়ে থাকি আর ভাবি- মেয়েটার এত দুঃখ কোথা থেকে আসে? এই পৃথিবীটা তাকে এত কষ্ট দেয় কেনো? আর এক মহাসমুদ্র দুঃখ নিয়ে সে কিভাবে যেনো খিলখিল করে হেসে ওঠে, কি নির্মল সেই হাসি! আমি ঐ হাসিটাকে বড্ড ভালোবাসি।  নির্বাক সেই মেয়েটা হাসতে হাসতেই বলে যায় অনেক কিছু। সে নাকি নিরব অভিমানে বিদায় নিয়েছিলো ধরনী থেকে, বিদায় বেলায় তার হাতে একটা শুকনো বকুল ফুলের মালা ছিলো, মুখে সেই হাসিটা মিলিয়ে গিয়েছিল- নীল বিষের ছোয়ায়।


Unspoken Language;


The smile of a girl possesses an enchanting power, weaving a silent language with nature itself. It echoes the warmth of sunshine, dances like the gentle sway of flowers in the breeze, and radiates a glow as if the moon borrowed its silver sheen. In her smile, there's a dialogue with the world, a poetry that whispers secrets to the trees and shares laughter with the stars. It's a language unspoken but universally understood, a connection that transcends words and resonates in the symphony of existence.



বির্মূত:




Comments