শেখড়ে


প্রারম্ভিকা:

নবীজি মৃত্যুর কিছুদিন আগে বোধ করলেন, আমি মারা যাওয়ার পরই তো সত্য প্রচ্ছন্ন হওয়া শুরু করবে, অর্ধাঙ্গীর বুকে মাথা রেখে তিনি বেঘোরে কাঁদলেন অর্ধাঙ্গীনি তার কান্নার গভীরতা টের পেলেন, চোখ খুলে নবীজি বললেন, বিবি যে সত্যকে আমি প্রতিষ্ঠা করলাম, আমার মৃত্যুর পর সেই সত্য প্রচ্ছন্ন হওয়া শুরু করবে, হয়তো এমন একটা সময় আসবে যখন হাসান হোসেন কারবালায় তৃষ্ণায় আর মাথাকেটে মারা পরবে, নবীজির বানী সত্য হয়ে ধরা দিলো সেই বাঁশীর সুর যুগ যুগ ধরে বেজে চলল লক্ষ কোটি প্রানের মাঝে। সেই সুর সেদিন আবার যখন বেজে উঠল, কারবালার বিষাদ আমাদের কে আচ্ছন্ন করলো, আমরা সেই বিষাদ অনুভব করলাম, এই বিষাদ আমাদের যে শিক্ষাটা দিলো তা কেউ গ্রহন করলাম না, কারবালা আমাদের কে জানালো আমাদের ভেতরের ভায়োল্যান্সি, তোমার মধ্যে যে হিংস্রতা সেটাকে থামাও নয়তো পুরো পৃথিবীটাই কারবালা হয়ে যাবে। এইতো সেদিন যখন- আমারই মধ্যে, আমার ভাই চাচার মধ্যে, এই হিংস্রতা দেখলাম মনটা হুঁ,হুঁ, করে কেদে উঠলো, আহারে কে ভরে দিলো এই হিংস্রতা?

বাংলা বর্ণের গঠনরীতিঃ

বাংলার বর্ণমালাটা সুন্দর, এটা এত সুন্দর করে সাজানো যাতে আমরা খুব সহজেই আমাদের অতিইন্দ্রিয়তাকে বুঝতে পারি। ব্যাপারটা কেমন জানতে ইচ্ছে হচ্ছে নিশ্চই, ওকে, ধরে নেই, অ হচ্ছে আমার অবচেতন মন, আমরা যখন কোনো সিচুয়েশনে নিজেকে স্যাটেল করছি তখন আমার অবস্থা থাকছে 'অ' টাইপে, এর ভেতর থেকে যখনি নিজেকে টেনে বের করছি সেই অবচেতনাটা আমিতে পরিনত হচ্ছে অ ভাবটা আ হয়ে যাচ্ছে।

আমিকে যখন চিমটি দিচ্ছি সে ভেতর থেকে একটা উ আওয়াজ বের করছে, যেন বোঝাতে চাচ্ছে, (উহ ব্যাথা লাগছে) এবার সেই উ এর সাথে ঃ (বিসর্গ) অথবা ব্যাঞ্জনা লাগিয়ে দাও! উঃ অথবা উহ আরে এটাতো একটা অর্থপূর্ণ ধ্বনি হয়ে গেলো, উহ তো আমারই একটা ইন্দ্রিয় অনুভূতি।

যাকগে এরকম আরেকটি সুন্দর ব্যাপার রয়েছে, সেটি হল গতস্য। আমরা গতস্য শব্দটাকে সরাসরি অতিতে নিয়ে চলে যাই! গতস্য ভাঙলে পাওয়া যাবে গত-সর্বস্ব্য। এবার অতিত শব্দটাকে ভাঙলে পাওয়া যাবে অবচেতনের তিথি। কিভাবে? অতিত শব্দটার সমউচ্চারিত আরেকটি শব্দ হচ্ছে অতিথী। মেহমানদের সাথে কাটানো অবচেতনের সুন্দর মুহুর্তটাই হল অতিত। সুতরাং গতস্য মানেই অতিত নয়! তাহলে কি দাড়ালো গতস্য হচ্ছে ঘটে যাওয়া সবকিছু আর অতিত হচ্ছে সেইসব ঘটনাগুলোর, কল্যাণকর অংশ । তুমি সেই কল্যানকর অতিত নিতে পারবে বাকি যা কিছু সবই গতস্য, আর সেই গতস্য নিয়ে শোচনা/আফসোস করাই নাস্তিকতা। একটু বিপত্তি আছে, কেউ যখন বললো, এটা তোমার জ্ঞানের অতিত! তখনকি অতিত ইনফিনিটির দিকে ইঙ্গিত করলো না? জ্ঞান কল্যাণকর, এজন্যই ডাইরেক্টলি অতিত বলা। ঠিক সেভাবেই ভবিষ্য শব্দটিও এসেছে, ভবিতব্য সর্বস্ব্যই হল ভবিষ্য। আমার মধ্যে ভবিতব্য সর্বস্ব্য, অবচেতন, আমি ও আমার ইন্দিয়তাই হল ভবিষ্য।


শব্দরে পরি-ভ্রমনঃ


আমার মনে হয় এই গতস্য আর ভবিষ্য শব্দগুলো যখন বাঙ্গালিরা প্রথম দিকে ব্যবহার করতো, সে সময় ইউনিভার্সেল টাইম স্কেলের (পাস্ট,প্রেজেন্ট,ফিউচারের) এই প্যাটার্নটা ছিলো না। এই প্যাটার্নটা যখন এলো তখন হয়তো কেউ এই শব্দগুলোকে সেই প্যাটার্নের মধ্য ব্যাবহার করা শুরু করছে। এইতো কেউ একজন অভ্যর্থনায় বলল শেখড়ে স্বাগতম, সেই শব্দটি আমাদের সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ল, কেউ জানলাম না এই শব্দটি কি ইনট্যান্সলি ব্যবহার করলো নাকি ইউহি। 


মহানন্দার বাড়ী:


যাকগে, বাংলার সব নদী মুলত একই পথে ধাবমান হয়ে সমুদ্রে মিলেছে, নদী আর সমুদ্রের এই মিলিত স্থানটিকে যদি শেখড়ের মুল ধরা হয় তাহলে দেখা যাবে শেখড়ের সবচেয়ে নিচের ভূগর্ভস্থ অংশটি মহানন্দ হয়ে তোমার আমার বাড়ির উপর দিয়েই বয়ে চলছে।

ভাই! এই মাটিই আমাদের সিংহাসন, আমাদের যখনই মনে চাইবে সেই সিংহাসনে আমি বসবো, নিজেকে থামিও না, দেখবে তুমি সত্যি রাজা, তোমার রাজ্যটা যে অনেক বিশাল আর তুমি যে সত্যি মহান তোমার সত্ত্বা তোমাকে জানিয়ে দেবে।


মানুষের- কেওস:


কারা যেন কানাকানি করছে, নিজের পরিস্থিতিতে বসে অন্যের পরিস্থিতি বুঝতে পারা যায় না?  ভাই পরিস্থিতি যারা বুঝতে পারে কেবল তারাই তোমার পাশে, তোমার মাথায় স্নেহের পরশ বুলিয়ে তোমাকে জানিয়েছে, এই পৃথিবীটা তোমাকে আনস্কিল বানিয়ে রেখেছে, কিন্তু সত্যিই কি তুমি আনস্কিল ভাই।

সুগন্ধটা ভালো লাগলে তা নিজের মধ্যে নাও, প্রবাহিত হতে সাহায্য করো, সুগন্ধটা কোথা থেকে আসছে, কিসের সুগন্ধ, কারা বয়ে নিয়ে আসলো দ্যাটস্ নট ম্যাটার।





Comments