অবতার

আনসার্টেনিটির উদয়;

অবতার ব্যাপারটা সৃষ্টিকর্তার অনেকগুলো রুপকে নির্দেশ করে। স্রষ্টা নিজেই যখন প্রকৃতি তখন অবতার হচ্ছে তার রূপ। আমাদের কুরআন মাজিদে আল্লাহর ৯৯ টি নামের উল্লেখ্য আছে, এগুলো মুলত আল্লাহর অবতার বা রুপ অথবা গুন। যেমন- ইয়া রাহমানু, ইয়া রাহিমু, ইয়া সালামু বাংলায় হে দয়ালু, হে ক্ষমাশীল, হে শান্তিদাতা। মুলত আল্লাহপাকের এই গুনগুলো প্রতিটি মানুষের মধ্যেই দেখা যায়, যখন মানুষ এধরনের অনুভুতির মধ্যে থাকে তখন সয়ং আল্লাহ তার মধ্যে বিরাজ করে।  কি বিশ্বাস হচ্ছে না, আল্লাহর নামগুলোর মধ্যে একটা হলো সর্বব্যাপী, আরবী যেনো কি? খুঁজে দ্যাখো? আচ্ছা ওয়াসী তুমি কি জানো?

মানে হচ্ছে, আল্লাহ সবখানে, সবার মধ্যে বিরাজমান? তুমি কি ভেবেছ আল্লাহ তোমাকে দেখছে না? তোমার ভালো মন্দ দেখছে না? তোমার ভালো মন্দ না দেখলে তুমি কিভাবে ভালো মন্দ জানতে পারছ?

কে তোমাকে জানাচ্ছে কোনটা ভালো কোনটা মন্দ?

সেদিন কার পোস্টে যেন দেখলাম বিবেকানন্দ বলছে- মসজিদ, মন্দিরে যারা সালাহ করেন তারা অবশ্যই ধার্মিক, এর বাইরে মানুষ যখন নিজেকে অন্যের কল্যানে নিয়োজিত করে তখন সে দেবতা, মানে ঐ সময় তার মধ্যে সৃষ্টিকর্তা বিরাজ করে। আচ্ছা আমরা আল্লাহর ৯৮ টা নামের সঠিক মানে খুঁজে পাচ্ছি কিন্তু আল্লাহ শব্দটার মানে এত প্রচ্ছন্ন কেনো?


নিজের সামনে দাড়ানো;


সালাহ শব্দটির অর্থ হচ্ছে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া, নিজের মধ্যে তৈরী হওয়া সংশয় মেটানো, এই সালাহ ব্যাপারটা টমেটো,গাজরের সাথে মিলে সালাত হয়ে গেলো, এখন আমরা #সালাহ আদায় করতে গিয়ে নিজের মধ্যে জমে থাকা সংশয় না মিটিয়ে গবেষণা শুরু করে দিলাম, সে কি করছে? কেন করেছে? তার এটা করা উচিৎ হয়নি, এটা কি জায়েজ না নাজায়েজ। মুলত সালাহ ব্যাপারটা হচ্ছে সম্পূর্ণ নিজের জন্য। ইস বারে মে তুমহারা কিয়া সালাহ হ্যা ভাই?

সেদিন শান্ত স্যার প্রার্থনা আর উপাসনা কি তা কম্পেয়ারিজমের মাধ্যমে বোঝাচ্ছেন!  স্যার স্রষ্টার উদেশ্যে আমরা যা কিছু করি এখন সেটা যা কিছু হোক না কেনো, সবকিছুর মৌলিক উদেশ্য হল নিজের মধ্যে এ্যাটেনশন নিয়ে আসা। সেই এ্যাটেনশন আনতে গিয়ে আমরা ডিস্ট্রাকশন্'স  নিয়ে আসছি। সেই ডিস্ট্রাকশনে হারিয়ে যাচ্ছে কত আরিফ আর কত আজাদ!

আজকাল ফেসবুক আমাদের অ্যাভাটার বানাতে শেখাচ্ছে? ঠিক এরকমই সৃষ্টিকর্তার রুপ আমরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে অলংকৃত করি, আমরা যে যেভাবে সৃষ্টিকর্তাকে দেখি সৃষ্টিকর্তা আসলে তেমনি। 

এরপর জানলাম সৃষ্টিকর্তা এক ও অদ্বিতীয়। এটা জেনে কি লাভ হলো, আমরা আবার বিভিন্ন মানুষের স্রষ্টার মধ্যে বিভিন্ন রুপ দেখতে পেলাম, অথচ আমরা বুকভরা নিঃশ্বাস নিয়ে বলছি- লা ইলাহা ইল্লালাহ।

কারা যেন এখনো আল্লাহ কি সাকার না নিরাকার এই নিয়ে পরে আছে, আরে বোকা এক আল্লাহই যদি পুরো মহাবিশ্ব রচনা করে তাহলে তিনি সাকার না নিরাকার তাতে কি যায় আসে! সকল মানুষের স্রষ্টা তো তিনিই। 


প্রতিমার স্বরসতী;


এদিকে প্রতিমার মধ্যে আমরা অনেকগুলো হাত দেখতে পেলাম, কোনহাতে একমুঠো শস্য নিয়ে আছে তো আরেক হাতে কারো ছিন্নমস্তক, একহাতে আর্শিবাদ করছেন তো আরেক হাতের ত্রিশূল হিংস্রতার বধ করছে, একই প্রতিমার অসংখ্যরুপ, কখনো লক্ষী তো কখনো স্বরস্বতী, কখনো দূর্গা  তো কখনো কালী। প্রতিমার ঐ অনেকগুলো হাত মুলত অনেকগুলো রুপ বা অবতার, এসব রুপ ধারন কালে নারীকে দেবী বলা হয়েছে। নারীর মধ্যে ঐসব রুপ যখন প্রকাশ পাওয়া শুরু করে তখন পুরুষ হয়ে উঠে 'সাজ্জান' বা সৃজনশীল। 


ধারনা, অনুমান ও অনুমিতি;


সেদিন এক ছোটভাই ধারনা,অনুমান, বা আন্দাজ সংক্রান্ত কোন উক্তি লিখে, তাতে আবার সেই লোকেশন মার্ক! তবে এবার তার উদেশ্য আমি অথচ আমি তাকে বোঝানোর চেষ্ঠা করেছিলাম যখন কারো দিকে তোমার আঙ্গুল উঠবে, সেই আঙ্গুলটা নিজের দিকে ঘোরাও! ছোটভাই ধারনা সম্পর্কে তোমার ধারনাটা এখনই বদলে ফেলো।


পৃথিবীতে জ্ঞানের যে রুপ আমরা দেখি তার সবই ধারনা, অনুমান, অনুমিতি থেকে এসেছে। আই এ্যাম ইন, কেউ যদি তোমাকে না বলতো দুনিয়াটা থালার মতো তাহলে তুমি জানতে পারতে না এটা গোল, এটা সবসময় ঘুরছে। মুলত ধারনা থেকেই আমাদের ইমাজিনেশন শুরু। ইমাজিনেশন, যেটাকে আমরা এতদিন কল্পনা ভাবতাম আধুনিক বিশ্বে সেই ইমাজিনেশন ব্যাপারটা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারন কি? আমাদের সব এ্যাকশনই সবার প্রথমে আমরা ইমাজিন করে ফেলি।


বইয়ের ভেতর ভূত;


সেদিন এক ছোটভাইকে বললাম ছোটভাই, বইয়ের সেই ভুত টেকনোলজিতে আবির্ভাব হয়েছে, একটু খুজে দ্যাখোতো, সেই ছোটভাই কি করলো অনেক খোঁজাখুঁজি করে শেষমেশ রিপন ভিডিওতে টেকনোলজির ভূত ধরে ফেলল, আমি হাসলাম;

অন্ধকার কবিতার অন্ধকার থেকে জীবনানন্দরা বলে উঠলো…..


গভীর অন্ধকারে ঘুমের আস্বাদে আমার আত্বা লালিত;

আমাকে কেন জাগাতে চাও?

হে সময়গ্রন্থি, হে সূর্য, হে মাঘনিশীথের কোকিল

হে হিম হাওয়া,

আমাকে জাগাতে চাও কেন?






Comments