নারীর মুক্তি
বাংলা ভাষায় সমব্যাঞ্জ কয়েকটা শব্দ আছে-
কায়া,হায়া, ছায়া,জায়া,আর মায়া।
কায়া হচ্ছে দেহ, হায়া হচ্ছে লজ্বা, ছায়া হচ্ছে প্রতিবিম্ব, জায়া হচ্ছে জননী আর মায়া যেন কি?
এক মায়ার জগতে প্রবেশ;
আমি আমার দেহে বাস করছি, আমার মধ্যে যখন লজ্বাবোধ হচ্ছে, কি যেন আমার দেহটা গুটিয়ে নিচ্ছে, আবার যখন এই দেহটা লজ্বা কটিয়ে উঠছে, আমি হয়ে উঠছি ছায়ার মতো, নিজেকে নিজেই বুঝতে পারছিনা, যে যার মতো তালে ছুটছি। আমাদের মধ্যে কি যেন অদম্য শক্তি নিয়ে আসছে, কেউ হয়ে উঠছি দূর্বল। এই সময় আমাকে আমি নিজেই নিয়ন্ত্রন করতে পারছিনা, এসময় আমাকে কে নিয়ন্ত্রন করছে? কে আবার আমার জায়া। জায়া যদি আমারই অংশ হয় তাহলে জায়াটা আপনাআপনি কিভাবে জননী হয়ে গেলো? পৃথিবীতে কি কোন নারী আপনাআপনি জননী হয়েছে? নো, অতিতে হয়েছিলো আজকাল হচ্ছে না। আজকাল কেনো হচ্ছে না? আমরা তাদের জনন ক্ষমতাকে প্রতিরোধ করতে শিখে গেছি, স্বৃতি চিহ্ন ছুড়ে ফেলছি ডাস্টবিনে, কিন্তু অতিতে এটা কেউ করতে পারতো না। প্রশ্নটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে অলৈাকিকতার অবতরনা করলো।
জননীর অলংকার;
চলুন জননীতে ফিরে যাই। সেদিন কে যেনো নারী কে আকাশের বিশালতার সাথে উপমা দিয়েছিলো। নারী যদি এত বিশাল তাহলে সে এত সংকীর্ণ হয়ে গেলো কিভাবে? কে তার অলংকার চুড়ি করলো? আজকাল নারীর এই বিশালতা এত সংকীর্ণ হয়েছে, তিনজনের বেশি রান্না করতে তাদের কষ্ট হয়, যৌথপরিবার বলতে যে কিছু ছিলো তা তারা জানতেও চায় না, নিজেদের কে আজকাল তাদের গৃহকর্মী ও যৌনকর্মী মনে হয়। তারই মত এক মা যখন বৃদ্ধ বয়সে একটু সন্তানের ছায়ায় থাকার চেষ্ঠা করলে তার সংকীর্ণতা বেড়েই চলছে, যে ছোট্ট শিশুদের শিক্ষা তার প্রকৃতি আর পরিবেশের উপর নিভর্র করছে সেই বিশাল জননী সেই শিশুদের একটা বদ্ধঘরে আবদ্ধ করে রাখছে।
এইতো সেদিন তার মা একজোড়া বালা তার হাতে দিয়ে বলল এগুলো তোর সৃজনশীলতা, এগুলো যখন পরবি সেসময় যা করবি তা যেন সবার জন্য হয়, একটি ছোট্ট পাথর বসানো গলার হার তাকে দিয়ে বলল এটা তোর মনেে সৌন্দর্য, তোর মননশীলতা, সবসময় চেষ্ঠা করবি মনটাকে কিভাবে সুন্দর করা যায়, এবার দুটো কানের ঝুমকা দিয়ে বললো, নে, এটা তোর সৃষ্টিশীলতা, যদি কখনো নিজেকে অহংকারী মনে হয়, এই ঝুমকার সুতোটা যেভাবে ঝুমকাটাকে ব্যলেন্সে রাখছে তুইও তোর মনটাকে সেভাবে ব্যালেন্সে রাখতে পারবি।
আমরা পুরুষরা কি করলাম, হারিয়ে যাওয়া সেই অলংকার না পেয়ে কৃত্তিম অলংকার দিয়ে জননীকে ঢেকে দিলাম আর জননীর মধ্যে বিশালতা খুজে ফিরলাম।
'জায়া' শব্দটার সমউচ্চারিত শব্দ;
জায়া শব্দটার একটা ভগ্নাংশ এখনো আমরা ব্যবহার করছি জা হিসেবে। মুলত এই জা আর জায়া শব্দটির রুপ এমন কিছুকে নির্দেশ করে যেখানে একজন নারীর মাতৃপ্রকৃতি, তার সৃজনশীলতা, মননশীলতা, সৃষ্টিশীলতা সবকিছু একটা ব্যালেন্সে থাকে। যদি নারীরা তাদের এই জায়া রুপটি নিয়ে আসতে পারে তাহলে তার স্বামীর ছায়া, হায়ার মধ্য দিয়ে কায়াতে প্রবেশ করতে পারে। সুতরাং একজন নারীর জায়া হয়ে ওঠাটা জরুরি, যদি সে তার হারানো অলংকার ফিরে পেতে চায়। তা না করে নারীরা কি করলো ভাবতে লাগলো, রাতটা আসুক, দেখে নিবো তুমি কতো বড়ো মরদ হইছ।
আজকাল কারা যেনো জননীর এই বিশালতাকে কালো কাপড়ে মুড়িয়ে তাদের কে সো-কেসে ভরে সামনে আয়না ধরে বলা শুরু করেছে, ওগো দেখো তুমি কতো সুন্দর? আর তারা খুশিতে ডগমগ হয়ে উঠল, আহা পৃথিবীটা আসলেই সুন্দর! কি অপরুপ!
পরক্ষনেই যখন প্রকৃতি বিরুপ হওয়া শুরু করলো জননীর নিজের কোন শক্তির প্রয়োজন পরলো তখন জননী আবার হারানো অলংকার খুজেতেই ব্যাস্ত হয়ে পরলো।
এই জায়াইতো আজকাল জয়া হয়ে উঠেছে। হে জয়া, তোমার হারানো অলংকার খুঁজে পেলে কি আর কৃত্তিম অলংকার পরবে না? অবশ্যই পরবে কিন্তু নিজের জন্য নয়? যদি কেউ অলংকার খুঁজতে খুঁজতে তুমি পর্যন্ত পৌছে যায় তারা যেন বুঝতে পারে, কোনটা আসল আর কোনটা নকল অলংকার।
কেউ একজন বললো এই পৃথিবীর অন্ধকারে তাহলে কি আমরা নারীদের একাই ছেড়ে দিবো ? নারীরা আসলে পুতুল নয়, দে ক্যান ডিসাইট হোয়াটন ইজ রাইট অর রং টু দেম, ভয়ের কিছু নাই, তুমি খেয়াল রাখো তোমার অর্ধাঙ্গীর জায়া হয়ে উঠছে কি না? আসলে তোমার জায়ার মধ্যে আলোকিত যে সুন্দর রুপ সেটা তোমারই দেয়া। সহজভাবে তুমি সূর্য, সে চাঁদ। সেই চাঁদের আলোয় একটা নির্মলতা আছে, ঐ নির্মলতার জন্যই কি এই ব্যাথার কবিতা লিখছো না।
নজরুলের নারী কবিতায় দুইটা লাইন আছে, দুই লাইনেই শত সহস্র কথা লুকিয়ে রাখা আছে-
"নর দিল ক্ষুধা, নারী দিল সুধা, সুধায়-ক্ষুধায় মিলে
জন্ম লভিছে মহামানবের মহাশিশু তিলে তিলে"





Comments
Post a Comment