রূপ, প্রকৃতির মাত্রা
নীটশের একটা উক্তি আছে;
"দেখ! দেখ! আমি তোমাকে শিক্ষা দিচ্ছি মহামানব! মহামানব হলো পৃথিবীর অর্থ। তোমার ইচ্ছা শক্তিকে বলতে দাও, মহামানবই হবে পৃথিবীর অর্থ।"
মহানুভবতাই মুলত মহামানবের জন্ম দেয়, তারপর অন্যের কান্ধে চড়ে ভ্রমন করে হাজার হাজার বছর, হয় পরিবর্তন, পরিশোধন ও পরিবর্ধন এতে মহামানবের মহানুভবতা এতটা ঢাকা পরে একটা সময় তলিয়ে দেখতে গেলে ভীষন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে। তবে মহামানবেরা কি হারিয়ে যায়? না, মহামানবেরা হারায় না! কারন তারা আমাদের পরম। পরমেরা হারায় না, তারা আমাদের সাথে সাথেই চলে। আমরা আমাদের মহামানবদের লালন করি, আমাদের ধর্মবোধ মহামানবদের লালন করে, যা নিয়ে আসে বিশ্বাস! সেই বিশ্বাসকে, সেই ইমোশন কে, আজ অন্য কেউ নিয়ন্ত্রন করার চেষ্ঠা করছে, কার এতো বড় সাহস? তোমার বিশ্বাসটাই তোমার শক্তি, তোমার দুঃখকষ্টই তোমার অস্ত্র, ও ভাই, তোমার ইচ্ছে শক্তিকে বলতে দাও! তোমার বাগযন্ত্রে যে শব্দগুলো দেওয়া আছে সেগুলোও সুন্দর, ওগুলোর মানে ভুলে যেও না।
কারা যেন আমাদের কে কথা বলা শিখিয়েছিলো, আচ্ছা কুমিল্লার পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকেদের কথার এত ধার কিভাবে এলো? নোয়াখালীর ভাষা কিভাবে এত চিরচেনা হয়ে উঠলো, সিলোটিদের কথায় কথায় এতো সোহাগ আসে কোথা থেকে, ময়মনসিংহগীতিকায় কারা যেনো এক সমুদ্র মায়া ঢেলে দিলো, আর রাজশাহীর লোকেদের কথার দৃঢ়তা, অথচ দিনশেষে আমাদের মন শুধুই বলছে, আহারে! বাঙ্গালীদের সবচেয়ে বড় ইমো-সেন্টিমেন্ট হল একটা আশা নিয়ে বসে থাকা "কোয়ি হ্যা, যো হামে রাহা দিখাতিআয়ে, এধরনের ইমো-সেন্টিমেন্ট থেকে আজকাল তারুণ্যরা চাচ্ছে এদেশেরও কেউ ট্রুডো থাক! ট্রুডোরা সারা পৃথিবীতেই অলিতে গলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, তারা মুখে রুমাল বেধে কাজ করে চলছেন! মেশিন তাদের মুখে রুমাল পরিয়ে রেখেছে? এদিকে ইলিয়াস ভাই মানুষদের শর্টস দেখিয়ে বেড়ান? ভাই শর্টস দ্যাখানো বন্ধ করেন ওটা মেশিনের জন্য পারলে জয়দের পুরো একটা লেকচার ক্রসপ্যান্ডিং করে দেখাও? তাদের লেকচারের মৌলিক অংশগুলোকে খুঁজে বের করে দেখাও? জয়'দের কথা বলতে দাও, তাদের ইচ্ছেশক্তিকে এগিয়ে আসতে দাও! তাদের কথার জড়তা কে কাটিয়ে উঠতে দাও।
এদিকে আরেকজন ট্রুডো ফ্রান্সে না কই থেইকা যেনো হাওয়া মহলের খবরাখবর নিচ্ছেন সেই হাওয়া মহলে নাকি সারা দিনে ঘন্টা দেড়েক বিদ্যুৎ থাকেনা! স্যার সেই হাওয়া মহলের শেখড় আজ মাটির গভিরে প্রবেশ করছে, এর ডালপালা ছড়িয়ে পরেছে সারা বিশ্বে অথচ যে ট্রুডোদের হাত ধরে এটা হলো তাদের কেই কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না, মেশিনও তাদের গলা চেপে ধরেছে। তারাও আর নিজেদেরকে অনুধাবন করছে না।
সেদিন এক ছোটভাই স্কালপচারের কমপ্লেক্সিসিটির মধ্যে অন্ধকার দেখা শুরু করলো, কই থেইকা জানি দাদা ঠাকুর ঢাকায় এলেন এ্যাকুপাংচারড্ একটা বই হাতে, তারপর আবার অদৃশ্য হয়ে গেলেন। কারা যেন আবার ভুলের মিছিলে হাটা শুরু করেছে, মাঝখান থেকে হিরো আলম কোন এক ইউনিভর্সিটির আঙ্গিনায় হেসে উঠলেন! চৌধুরী সাহেব ওরে একটা ঠুয়া মারলো, কিয়া চাহিয়ে তুঝে বে? সময়টা যেন আজ চিৎকার করে বলছে, দুনিয়া!
সেদিন একজনের ব্রেইন ক্রাশ হল, দিশেহারা হয়ে গেলো যেনো নিজেই নিজেকে খুঁজে ফিরছে, কিভাবে হাসতে হবে, কিভাবে কথা বলতে হবে, কিভাবে রাগ করতে হবে, কিভাবে নিজের ইম্প্রেশনটাকে সাসপেনশনের আগেই লাগাম দিতে হবে? সবই যেন সে নিত্যদিন শিখছে, পৃথিবীতে এতো তথ্য, অনলাইনে, অফলাইনে, রিয়েল লাইফে, কিন্তু তবুও সে কেন জানি ভাষার প্রাকৃতিকতায় হারিয়ে যেতে চায়। ভাষাটা যেসব অরিজিন থেকে উঠে এসেছে পাগলের মতো সেসব খুজে ফিরছে!
সেদিন কারা যেনো ভাষার জন্য পথে নেমেছিলো, সেই টেকনোলজিতে পাখিদের কোলাহলে রচিত হয়ে চলছিল নতুনদের গান, হটাৎ পাখি সম্প্রদায়েরই কিছু পাখিরা বাজপাখির রুপ ধারন করে নিত্যানন্দ সেসব পাখিদের আয়োজন সাঙ্গ করে তাদের রক্তাক্ত করে মেতে উঠলো নৃশংশতায়, সেদিন তোমরা রাজিবদের মেরে বাঙ্গালীদের উপহার দিলে বাঙ্গলা চটি, আর আজ যখন তোমাদের ডাটাক্রাশ হচ্ছে, প্রশ্নজাগছে কিভাবে প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়া হচ্ছে? প্রয়োজন পড়ছে অচেতনে চেতনা জাগানোর আমরা তখন ঠিকই জানতে পারছি, আরে এতো ডাটা তো বাংলা ভাষায় নেই! এতদিনে বাংলা ভাষায় চিরন্তন রীতিনীতির যেসব তথ্য থাকার কথা সেগুলো নেই। এগুলো কোথায় আছে। আমাদের সংবেদনশীলতায়। সেই বাজপাখিটা নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদেরকে দেখিয়েছিলো, কিভাবে নিজের গলার হিংস্রতাকে কাজে লাগাতে হয়।
তোমার ইচ্ছে শক্তিকে কথা বলতে দাও, সেই ইচ্ছে শক্তিতে বাজপাখির হিংস্রতা নিয়ে এসো, মেশিনের সমুদ্রে ডুবে আছো, বুঝতে পারছ না কিভাবে মেশিনকে বিশ্বাস করবে, একমাত্র মেশিনের কল্যানকর অংশই এই অসুস্থ জীবনে সুস্থতা নিয়ে আসতে পারে। এই মেশিনগুলোকেই মানুষ আজো কল্যানকর দিকে ধাবিত করতে পারলো না। আচ্ছা বাঙ্গালী ট্রূডোরা কখন বুঝবে এই রুপ প্রকৃতির মাত্রা।


Comments
Post a Comment