'আওয়াজ উডা, কথা ক, জবাব দে'


Image Source: #students_Movement_2024


পৃথিবীতে ডিক্টেটররা সবসময় স্বঘোষিত হয়, তাদের এক্টিভিটি সবসময় “মাইনক্যাম্ফের” ঐ কমন সাইনটাতে গিয়ে পৌছায়, “একটা বন্দুক যদি একশোজন মানুষকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে তাহলে বন্দুকই এগিয়ে” আসলেই কি তাই? আমরা দু'দিন আগেই দেখলাম কিছু মুগ্ধ এই দেশের প্রতিটা মানুষকে মুগ্ধ করে, ডিক্টেটরের এই মিথ্যাটাকে ‘মিথ্যা’ হিসেবে প্রমাণ করলো। ভোলা শোন, আমি তোকে সত্যি কথাটা বলছি, তুই সেদিন যখন কমপ্লেইন করেছিলি আমি নাকি নস্টালজিয়ায় ভূগছি, সেদিন আমি তোকে বলতে পারিনি, আজ বলছি- এই নস্টালজিয়ার মধ্যেই চলছে মানুষের এ্যাওয়ারনেস, ওখান থেকেই টুক করে এ্যাওয়ারনেসটুকু পিক করতে হবে। তুই যদি এ্যাওয়ারনেস সিস্টেম ট্রাকিং করতে ব্যার্থ হয়ে থাকিস, তাহলে এই দেশে একজন সত্যিকার জনপ্রতিনিধি না আসা পর্যন্ত তোকে রিসেন্ট যত বাংলা র_্যাপ গান বের হয়েছে, সেগুলো শোনার শাস্তি দেয়া হলো, এই শাস্তিটা তোকে দেয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার থেকে। হুট করেই র_্যাপের জাগরণে ইউটিউবে ঝড় চলছে কদিন ধরেই, ১৮ জুলাই থেকে যে গানগুলা মানুষ কিছুদিন শুনতে পায়নি, এখন সবাই শুনছে।


এইগুলা বাদ দে, শোন, কেউ তোকে রিয়েলটাইম ইস্যু আর রিয়েলটাইম সলিউশনের কথা বলছে না, কেনো বলছে না, সবার আসলে নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য ফাঁক দরকার। এই মাদারফাকাররা এভাবেই এই জীর্ণ দেশকে আবার খুবলে খুবলে খাবে। ভোলা তুই ‘কথা ক’। তুই দুদিনে ভুলে গেলি, উদেশ্য কি? ভোলা তুই আঙ্গুল তোল, তোর প্রশ্নবিদ্ধ আঙ্গুল যেদিকে উঠবে, সেখানেই পরিবর্তন হতে বাধ্য। এখন কিন্তু তুই কথা না বলে থাক)তে পারবি না, তোর বুকে গুলির চিহ্ন দেখলাম, তুই নাকি ভয়কে জয় করেছিস, তুই নাকি কার্ফিউ ভেঙ্গেছিস। বাহ্ তোর তো অনেক সাহস! তুই এখন থেকে স্বীকৃত রাজা’কার! স্বাধীন দেশে স্বীকৃত রাজা'কার, হাঃ হাঃ হাঃ মাইকেল জ্যাকসনও অনেক দুর থেকে তোকে দেখে হাসছে আর বলছে, “তারা কিন্তু তোমাকে মেরে ফেলতে পারবে না, হা হা হা


কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোন স্বায়ত্তশাসিত সংগঠন, বা অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে অথবা কোন সরকারী প্রতিষ্ঠানে, যদি কোন রাজনৈতিক দল অনুপ্রবেশ করার চেষ্ঠা করে, অথবা ব্যাক্তিগত প্রভাব অথবা দখলদাড়ির চেষ্ঠা করে, তাহলে তাদের ঐ রাজনৈতিক দল বা মত, কোথায় ঢুকিয়ে দিতে হবে ‘কাবিলা’ ভাই তোকে নিশ্চই বলেছিলো, নাকি, আমি মনে করায় দিবো? শক্ত করে হাতের মধ্যের আঙ্গুলটা তুলে, ঠোটের নিচের অংশটা দাঁত দিয়ে চেপে, চোখ বড় করে একটা বার তাকাবি, বাকিটা হাবু ভাই বলবে। আমাদের এই দেশটা চালানোর জন্য মুলত একজন সত্যিকার জনপ্রতিনিধি দরকার, যে জনগনের কথা সবার মাঝে উপস্থাপন করবে, রিয়েলটাইমে ঘটে যাওয়া প্রতিটা ঘটনার ইস্যু ট্রাকিং করবে এন্ড এ্যাওয়ারনেস সিস্টেমে একটা সলিডারিটি নিয়ে আসবে, দ্যাটস সো সিম্পিল, এজন্য নিশ্চই কোন রাজনীতির মহারাজ বা মহারাণীর দরকার পরবে না। আর এই বাকোয়াজ অন্ধকার রাজনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে, সময়ের গর্ভে হারিয়ে যাবে অসংখ্য মায়ের সন্তান। ভোলা, ২৪ শে এসে তুই যদি ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে ইনস্ট্যান্ড ইনফরমেশন গেদার করতে না পারিস, এন্ড সেটার ইম্পপ্যাট কে কাজে লাগিয়ে নিজের মধ্যে এ্যাওয়ারনেস তৈরী করতে না পারিস, তাহলে কি লাভ টেকনোলজির উৎকর্ষে। যদি এটা করা সম্ভব হয় তাহলে,এই দেশ আর কোন রাজনৈতিক বিভৎস্বতা দেখবে না। ক্ষমতা গ্রহন আর ছেড়ে দেয়ার সময় আর কোন মুগ্ধের জীবন যাবে না। এলআরবি এখনো চিল্লায়, ‘জীবনটা কোন নাটক নয়’ অথচ আমরা দেখছি এই নাটকে এতগুলো প্রাণ, ভোলা জবাব আছে তোর কাছে, জবাব দে, কথা কআওয়াজ উডা, কথা ক, এ্যাই বেডা তোর যুক্তি কই, মিডা মিডা উক্তি কই? চিরকুট আপু, তুমি না কমপ্লেইন করলা, যারা গুলির ভয় না করে, পথে নেমে এসেছিলো তারা সব চুপ, আপু তুমি কি একবার ভাবছ কেনো? সবাই এজন্যই চুপ, তাদের কাছে অনেকগুলো কেনো জমে গেছে! আপু তোমার কাছে কি এতগুলা কেনোর উত্তর আছে। থাকলে জবাব দাও


এই দেশের প্রতিটা শহরের অলিগলিতে যে মুগ্ধরা কথা বলবে, তাদের সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিশ্চই অপারগ নয়। আমাদের আসলে সেরকম এক্স চাই না যারা দুঃসময়ে ছেড়ে চলে যায়, অথবা তেমন মায়ের সন্তানও চাই না যারা, বিপন্ন মা কে রেখে পালিয়ে যায়। ভোলা দেখ, প্রবলেমগুলোকে ফিগারআউট করা খুব সহজ, ‘রক্তগরম-মাথাঠান্ডা’ থাকতে হবে। কাকতালে যে বাঁশির হুইসেল শোনা গিয়েছিলো, সেই হুইসেল বাজলেই সজাগ হতে হবে।

স্বৈরাচারকে ক্ষমা করতে পারে পারে কেবল জনগন, কোন দেশের রাষ্ট্রপতিও না, অথবা কোন বিচারপতিও না

যারা কপটতার চামচামি করে, স্বার্থসিদ্ধির সন্ধানে থাকে, ঐ চাটার দলকে জানিয়ে দাও, দেশটা চলেছে মানুষের এ্যাওয়ারনেসে। একদল কাউয়া শকুন যখন এই মৃত দেশটার মাংস খুবলে খাচ্ছিলো, ওরা জীবন দিয়ে ঝাটিয়ে পিটিয়ে ওদের বিদায় করলো, আবার দু'দিনেই একঝাক কাউয়া-শকুন উড়ে এসেছে, ভোলা তুই আবার ঘুমিয়ে পরলি? ওঠ, ভাই! এবার কিন্তু তুই দ্বায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিস? চেয়ে দ্যাখ শিরোনামহীনেরা অগনিত “কোনো” ছুড়ে দিয়েছে তোর দিকে? এই এতগুলা কেনোর মানে কিন্তু তোকে খুঁজে বের করতে হবে। ‘আওয়াজ উডা’ ভোলা তুই ‘কথা ক’ 

কোন রাজনৈতিক ‘মাদারফাকারের’ গল্প বলবে না আর, মিথ্যে কথায় সংবিধান লিখবে না, সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংবিধান লেখো, মানুষের জন্য সংবিধান লেখো, তোমার কথা বলার জন্য সংবিধান লেখো, কেনো সহজ সাবলিল ভাষায় সংবিধান লিখতে পারছ না, কেনো? যে সংবিধানের প্রতিটা কথা, প্রতিটা লাইন সবাই বুঝবে, আর কি লাভ! ঐ ভারী ভারী শব্দে, সংবিধানে লিখে, যে সংবিধান তোমার কথা কেড়ে নেয়। যে তোমাকে চুপ করতে বলবে? তাকে বলে দিও, না, আমি আর চুপ করবো না, আমার কথা বলার জন্য মুগ্ধ জীবন দিয়েছে, আমার কথা বলার জন্য ওরা রাজপথে রক্ত দিয়ে মানচিত্র একেছে! আমি কেনো চুপ করে থাকবো? তোমরা কেনো স্থানীঙ্ক পরিবেশ বোঝ না, লোকেশনাল ইনভায়রনমেন্ট বোঝ না। ক্লীন ইনভায়রনমেন্টের কোন দেশে জড়র রাজনীতির চর্চা বন্ধ করো, ভোলা নিশ্চই কথা বলবে। কোন জনপ্রতিনিধি কেনো চেয়ারে বসেই বলে, আমার কথা শোনো, কেনো তারা বলতে পারে না! তোমরা সবাই কথা বলো, আমি শুনছি। আর, এতো কথার দরকার কি? ১৮ জুলাই থেকে ৩৬ জুলাই ওরা যে কথাগুলো বলেছে, সেগুলোর জবাব কি তারা পাইছে? এতো কেনোর জবাব খোঁজা কি অন্তর্বতীকালিন দ্বায়িত্ব নয়? অপূর্ণতা আপু তুমি যদি মারজুক দার মতো, হাওয়াই জলের গাড়িতে বসে ভাবতে থাকো, তারপর কি? তাহলে কিন্তু মানুষকে ভক্তি করার মত ধোর্য ভোলা হারিয়ে ফেলবে। প্লিজ তোমরা কেউ ভোলাকে আর কমপ্লেইন দিও না, ভোলা তোমাদের একটা লাল সুর্য এনে দিয়েছে, এখন তোমরা তাকে একটা সুন্দর সকাল দাও।




Image Source: #students_Movement_2024


ভোলা ঘুমাচ্ছে, ও সকালে কার্ফিউ ভেঙ্গে রাজপথে মিছিলে গিয়েছিল, গলা ফাটিয়ে স্লোগান দিয়েছে। ওটা আসলে ওপেন ফিল্ড ছিল না। ভোলা এর আগে কখনো মিছিলে যায়নি, ছোট্ট একটা শহরে বেড়ে ওঠেছে ভোলা, কোন মিছিলেই সে দেশপ্রেম দেখতে পেতো না, সেদিন আবু সাঈদের মৃত্যুদৃশ্য নাড়া দেয়, তারপর মুগ্ধতার পানি লাগবে পানি! রাজপথের প্রতিটা স্লােগান যেনো ভোলার মনোজগতে হটাৎ করেই এক ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। ৩৫শে জুলাই কিন্তু ভোলা তার ভেতরে জমে থাকা কুৎসিত ভয়কে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে, ৩৬শে জুলাই ভোলা ছিল ভয়হীন, মুক্ত, স্বাধীন, কিন্তু রাত হতে না হতেই লুম স্পাইরালে শুনতে পায় “ইন ইওর কর্ণার” ভোর হতে না হতেই কাকতাল স্পাইরালে রক্তগরম-মাথাঠান্ডা।   


ভোলা, তুই না সিস্টেমকে চেঞ্জ করতে চেয়েছিলি, তুই যদি সিস্টেমকে চেঞ্জ করতে না পারিস, কাল স্কুলে গিয়ে দেখবি, কাউয়া শকুনরা একসাথে বসে চা খাচ্ছে, তোর ক্লাসের ঐ কালো ব্লাকবোর্ডটা ঠিক আগেরই মতই “সব জীব, নিবিড় অবেলায়, জড় হয়ে পরে আছে। ভোলা, তোর অপূর্ণতা আপুর লাস্ট চিরকুটটা  মনে আছে, ঐ যে শহিদ মিনারটা, অসংখ্য মানুষ শহিদের রক্তে পা দিয়েই ঐ মিনারটা তৈরী করেছে, যে তোমাকে বলছে সেন্ডেল পরে ওখানে ওঠা যাবে না, সে আসলে তোকে ডিস্ট্রাক্ট করার চেষ্ঠা করছে, এই বা_মার্কা প্রশ্নের মধ্যে থাকলে তোর এ্যাওয়ারনেস সিস্টেমে ডিসরুপশন তৈরী হবে, তুই এ্যাওয়ারনেস কে আর স্পাইরালি গেঁথে রাখতে পারবি না। মিথ্যাবাদী ধর্মব্যাবসায়ীরা জেগে উঠেছে, রাজনীতির মহারথীরা যারা মাজাভেঙ্গে ঘরে পরে ছিলো, তারাও আজ ক্ষমতার লোভে অন্যের কাঁধে ভর দেয়া শুরু করেছে, ভোলা শোন, এই লোভী কুত্তার বা_রা কখনোই বুক চিতিয়ে দাড়ানোর সাহস সঞ্চয় করতে পারে নি, দাড়িয়েছিলো আবু সায়েদ, মুগ্ধ, রাফি, আদনান। ওরা কিন্তু একা না, ওরা অনেকেই, সেদিন যে ছেলেটা পুলিশের কাভার্ড ভ্যানের ভেতর হাত পা ছুড়ে পাগলের মতো চিৎকার করছিলো, “আসছে ফাগুন-আমরা হবো দিগুন” সেই ভাই যদি হারিয়ে না যায়, তাকে জানিয়ে দিও, শোষনের বিষদাঁত তুলতে আমরা চারগুন হবো, মিথ্যে আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে, আমরা সবাই, আবার রাজপথে নামবো।

হটাৎ করে ভোলার ঘুম ভেঙ্গে যায়, হতচকিত ভোলা, কি হয়েছে, কালইতো পূর্ব দিগন্তে রক্ত লাল সুর্য উঠলো, সেই রক্ত লাল রাস্তায় উপর দিয়েই তো তোমরা চলতেছ, মুগ্ধকে ধারণ করো, বুকে ধারণ করো, তুমি নিজেই বুঝতে পারবে কি করতে হবে।



ফটোসুত্র: প্রথম আলো ।




Comments