“মাতুরিদ্দির সূন্নী অর্থডক্স”
মাতুরিদ্দির সূন্নী অর্থডক্সের সরল সমিকরণেই আস্থা ফিরে আসে নিষ্ঠার । মাতুরিদ্দি খুব বুদ্ধিমান, সহজ
সরল অনুধাবন থেকে বলে গেছে অনেক কথা, ভাব-প্রকৃতির প্রগলতা নেই অথচ চিত্তের একাগ্রতা কতো
শক্ত। আজকাল খুব জ্ঞানী ব্যাক্তিরা স্পেসিফিক কোন কঠিন সত্য সরাসরি বলে না, তারা পুরো
কনভারসেশনে, ঘুরিয়ে পেচিয়ে কোন না কোন ভাবে সেই কঠিন সত্যটাকে বলবেই। সহজভাবে SBC
এর ফিলোসফার রিপন ভাই যাকে ‘ময়ূর’ বলছে, কবি সাহিত্যিকেরা সেটাকে বলছে ‘মনুহরী’ আর গ্রামের
ভাষায় সেটাকে বলা হচ্ছে ‘মাঙ্গুহরী’ । কিন্তু মাতুরিদ্দিরা কথা বলে অর্থডক্সের একদম গভীর থেকে।
‘নিষ্ঠা’ অনেক কষ্টে অর্থডক্সটা খুজে পেয়েছেঅলস দুপুরে, এই ছোট্ট শহরের ফিলোসফি স্কুলটার সবুজ মাঠে লাল জামায় একা বসে আছে ‘নিষ্ঠা’
এলোমেলো কিছু প্রজেক্ট পের্পাস আর ছড়ানো গল্পের মেটেরিয়ালস, হাতের অর্থডক্সটায় মনোযোগ
দেয় নিষ্ঠা,
“আজানের ফুৎকারেই ধর্মপ্রানের মন বিগলীত হওয়া উচিৎ, যদি না হয়- আজানের শব্দটা যতদুর যায়,
সেটুকুর মধ্যে আর আজান দেয়ার দরকার নাই। কারণ শব্দটা যতদুর থেকেই আসুক- ওরা যে নামাজে
ডাকছে এটা প্রতিটা ধর্মপ্রানই বুঝতে পারে”
কঙ্গনা ম্যাম কমপ্লেইন করেছিল, ফজরের আজানে তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। হতে পারে, শান্তির জন্মলগ্নে
এখনকার মতো সাউন্ড সিস্টেম ছিলো না, তাছাড়া শান্তির মা মরে গেছে সেই কবে এখনতো শান্তি অশান্তি
মিলেমিশেই থাকে। সমস্যটা সেখানে না, সমস্যাটা মাধুর্য্যতার, এছাড়া শ্রূতিমধুর বলতে একটা শব্দ ছিলো।
অনেকগুলো র্সোস থেকে হরিবল কোনকিছু উৎপন্ন হওয়ার থেকে একটা র্সোস থেকে শ্রূতিমধুর
একটা সাউন্ড কি কঙ্গনা ম্যামের নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমের সমাধান হতে পারে না । যাই হোক,
নিষ্ঠা আবার অর্থডক্সে ঢুকে পরে। আজানের
এই সলিউশনটা ছিলো মাতুরিদ্দির র্নিঘন্ট চিন্তা, মাতুরিদ্দির অনুধাবনটা আরো সহজ ও সাবলীল,
‘‘নামাজ আমার আত্বশুদ্ধির জন্য, প্রার্থনায় আমরা নিজের ক্ষুদ্র অস্তিত্বেরও মঙ্গল কামনা করছি,
আল্লাহ‘র ইবাদতেই আছি, কিন্তু না বুঝে ! ”
অর্থডক্সে চেতনাকে জাগ্রত করতে অনেক বিভ্রমের সলিউশন করেছেন মাতুরিদ্দি। বেচেঁ থাকলে হয়তো
নিষ্ঠার বাবার মতোই বলতো, ‘তুমি যেটা জানতে চাও বা সবাইকে জানাতে চাও, সেটা সবার প্রথমে নিজেকে জানাও, দেখবে তুমি
নিজেও জেনে গেছো আর সবাইকে জানানো হয়ে গেছ ’ নিষ্ঠা তার বাবাকে খুব ভালোবাসে, ছোট্টবেলায়
বাবার স্কুটিতে চড়ে এই ফিলোসফি স্কুলটায় চত্তরে কাটিয়েছে কতোবিকেল। হ্যাপি রোডের কতো অলস দুপুরে নতুনদের গান, জাদুকরদের একা একা পথচলা।
নিষ্ঠা আজ অনেক বড় হয়ে গেছে, কিন্তু সময়
যেনো বিভ্রমের হাত ধরে তার পাশে পাশেই চলছে।
এরকম সিচুয়েশন থেকে বের হওয়ার জন্য নিষ্ঠাকে তার বাবা একটা নিনজা টেকনিক
শিখিয়েছিলো- ‘প্লেটোনিক অনুভুতি’ চোখ বন্ধ করে বাবার সাথে কথা বলা। বাবা তার সারা দেয়- বিভ্রমই
চেতনার সিড়ি, শব্দবোমায় কেপেঁ ওঠা ছোট ছোট শহরের র্জীণ পুরনো দেয়ালের বিভ্রমকে সিড়ি হিসেবে
ব্যাবহার করার কথাই বলতো ওরা-
“কুনফায়াকুনের নিমগ্ন শক্তিতে সবকিছু হয়ে যায়,
অথচ আমরা সারাদিন কুনফায়াকুনের জিকির করি,
কই, কিছুইতো হচ্ছে না? কিন্তু আমি সেটাই, যেটা আমি হতে চাই আর তোমরাও তাই”
নিষ্ঠা বুঝতে পারে, অর্থডক্সের সকল বিভ্রম পেরিয়ে যদি সিদ্ধান্তে পৌছানো যায়, তাহলে অর্থডক্সটা অনেক
মেনিংফুল হয়ে ওঠে। তখন আর নিজের মধ্যে ‘অ’ কিংবা ‘আ’ কনফিউশন থাকে না। অর্থডক্সের কোন
রির্সোস থাক বা না থাক, মাতুরিদ্দির রেফারেন্স পাওয়া যাক
বা না যাক, অর্থডক্সের মুলভাবটা ঠিকই তো জানা যাচ্ছে-
“নিয়ত নিজের মধ্যে উদ্ভাসীত সকল সত্যই আমার ইন্দ্রিয়তার পথ, আত্ব:দৃষ্টি সে পথের নকশা ।
নকশাটাকে দৃশ্যমান করতে প্রত্যহ পরির্চচা করো, খোদার কসম- ইশ্বর তোমাতেই লীন”
ফ্রান্সিস গত হয়েছে ,পুরাতন সকল অর্থডক্সকে বাতিল করা হয়েছে, প্রতিনিয়ত অসংখ্য কমপ্লেইন আর
মানুষের হা হুতোসে গজিয়ে উঠছে
আগাছাড়া । নিষ্ঠার ফোন বেজে ওঠে, মা ফোন করেছে- সবাই মিলে পুরনো সাদাবাড়িটাতে বেড়াতে যাবে,
কিন্তু নিষ্ঠার উঠতে একদম মন চাচ্ছে না। দুপুরের ক্লান্ত রোদ পেরিয়ে কেবল গোধুলীর ছায়া নামা শুরু
করেছে। এলোমেলো কাগজপত্র গোছাতে থাকে সে। তার চিন্তার মোড় বদলে যায়। মাতুরিদ্দিরা ক্ষ্যাত, আইডিওলজির বাইরে গিয়ে কথা বলে, আসলেই কি তাই?
“না, মিথ্যে কথা । একজন মাসিহার জন্য বসে থাকা নিশ্চই আইডিওলজির অংশ নয়, বরং নিজেকে
জানাও তুমি নিজেই সেই মাসিহা, হ্যা
আমরা সবাই মাসিহা। আমাদের চরম অবহেলায় সেই মাসিহা র্নিমমভাবে জখম হয়, ধীরে ধীরে
র্নিজীব হয়ে পরে। কিন্তু বিশ্বাস করো ইশ্বর
কখনো, কোন অবস্থাতেই তোমাকে ছেড়ে যায় না।”



কুরআনে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে জাতি ও ধর্মের বৈচিত্র্য আল্লাহর ইচ্ছাকৃত সৃষ্টি—যাতে মানুষ একে অপরকে জানার ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ পায় (৪৯:১৩; ৫:৪৮)
ReplyDelete